ইরাকের বাগদাদে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিয়ালা সেতুর কাছে ইবনে খাতিব হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংক বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার এ ঘটনায় আরো ১১০ জন আহত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানান। খবর বিবিসির।
অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালটির যে চিত্র বিশ্ব গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাকে ‘দোজখ’ বলে মন্তব্য করেছে অনেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বেদনাদায়ক ঘটনা যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সব হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা দরকার। দেশটিতে গণমাধ্যম পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় শতভাগ সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। ইরাকের আধা সরকারি মানবাধিকার হাইকমিশনের সদস্য আলি বায়াতি এর আগে হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪৫ বলে ধারণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আহতদের মধ্য থেকে একের পর এক মৃত্যুর সংবাদ আসতে থাকে। এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, ‘আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল, আমি আমার ভাইকে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসি, এরপর চেকপয়েন্টে যাই। পরে আমি ফের হাসপাতালটিতে যাই, একেবারে শেষ তলায় যাই, যেটি পোড়েনি। সেখানে ১৯ বছর বয়সি এক মেয়েকে খুঁজে পাই, যার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আমি তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে নিচে নেমে আসি। লোকজন লাফিয়ে পড়ছিল, হাসপাতালের চিকিত্সকেরা ওপর থেকে গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ছিল।’ এই দৃশ্য সহ্য করার মতো নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আতঙ্কিত লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল কাধিম বোহান জানিয়েছেন, হাসপাতালের ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালটির অনেক রোগীকে পরে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিনের অবরোধ, যুদ্ধ আর অবহেলার কারণে ইরাকের রুগ্ণ স্বাস্থ্যসেবা খাত চলমান করোনা ভাইরাস মহামারির সময় যথেষ্ট চাপে আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সোয়া ১০ লাখ লোক। মারা গেছে ১৫ হাজারের বেশি।
