ভারতে করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। গতকাল রবিবার টানা চার দিনের মতো দেশটিতে নতুন সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে। গতকাল টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯১ জন। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭৬৭ জনের। এদিকে রাজধানী দিল্লির অনেক হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট অব্যাহত রয়েছে। গতকালও অক্সিজেন সংকটে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে দিল্লিতে চলমান লকডাউনের সময়সীমা আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, করোনার এই ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের সবার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। খবর—বিবিসি ও এনডিটিভির।
সব মিলিয়ে রবিবার পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার ১৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩১১ জনের। সংক্রমণের দিক থেকে ভারত এখনো দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যায় দেশটি বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লি এই মুহূর্তে সবচেয়ে দুর্গত এলাকাগুলোর একটি, সেখানে বহু হাসপাতাল বেড নেই বলে রোগীদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। শহরে রোজ অজস্র রোগী শুধু অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিয়ে রাজধানী দিল্লির স্বাস্থ্য অবকাঠামো যে অন্তত বাকি দেশের তুলনায় অনেক গুণ ভালো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু হাজারে হাজারে কোভিড রোগীর চাপ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব মাত্র দিন সাতেকের মধ্যে সেই পরিষেবাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
শত শত রোগীর পরিজনরা একটা কোভিড বেডের জন্য উদভ্রান্ত হয়ে ছোটাছুটি করছেন, অথচ হাসপাতালগুলো নতুন রোগী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। রবিবার সকালেই সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ফোর্টিস এসকর্টস হার্টস ইনস্টিটিউটের নাম, এই নামি বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে আর একজন রোগী ভর্তি নেওয়ার মতো অক্সিজেনও তাদের স্টকে নেই। রাজধানীর যখন এই হাল তখন বাকি দেশের অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি রবিবার দেশবাসীদের উদ্দেশে তার নিয়মিত রেডিও ভাষণে বলেন, ভারতীয়দের দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতা কতটা করোনা এখন তারই পরীক্ষা নিচ্ছে। বহু প্রিয়জন অসময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। করোনার ফার্স্ট ওয়েভ সাফল্যের সঙ্গে সামলানোর পর আমাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। কিন্তু এই ঝড় আমাদের দেশকে এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলোকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে কেন্দ্র এই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জনসংখ্যার মোটামুটি চল্লিশ শতাংশকে টিকা দেওয়া না পর্যন্ত ভারতে মহামারির এই প্রকোপ স্তিমিত হওয়ার আশা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে ভারতের এখনো অনেক রাস্তা বাকি।
এদিকে ভারতের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে যুক্তরাষ্ট্র ভারত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ভারতকে সব রকম সাহায্যের চেষ্টা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা জেক সালিভান বলেন, ভারতকে সাহায্যের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্ধু দেশ ভারতের জন্য সব রকম সাহায্য করব এবং মেডিক্যাল সরঞ্জাম, জীবনদায়ী ওষুধ থেকে ভ্যাকসিন দ্রুত সরবরাহের কাজ করব।
