আজ পবিত্র রমজানুল মোবারকের ত্রয়োদশ দিবস আমরা অতিবাহিত করছি। করোনাকালে আর্তমানবতার সেবায় আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। যার যার সাধ্যমতো গরিব-দুঃখী ও অসহায় লোকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদি খুঁটির মধ্যে একটি খুঁটি হচ্ছে জাকাত। মুমিনদের শারীরিক ও আত্মিক ইবাদত হলো কলেমা, নামাজ ও রোজা। মুসলমানদের এই তিনটি ইবাদত দৈহিক ও আত্মিকভাবে পালন করতে হয়। আর জাকাত ও হজ হলো মুসলমানদের অর্থনৈতিক ইবাদত। মুমিনদের দেহ ও রুহের খাজনা হলো কলেমা, নামাজ ও রোজা। আর মুমিনদের ধন-সম্পদের পবিত্রতা অর্জনের খাজনা হলো জাকাত। জাকাত চার প্রকার। প্রথমত, চতুষ্পদ জন্তু। দ্বিতীয়ত, জমিন থেকে প্রাপ্ত সম্পদ। তৃতীয়ত, মূল্যবান বস্তু। চতুর্থত, ব্যাবসায়িক পণ্য। চতুষ্পদ জন্তু গরুর জাকাত :৬০-এর অধিক গরু হলে প্রতি ৩০টিতে একটি তাবি বা তাবিয়া দিতে হবে। আর প্রতি ৪০টিতে একটি মুসিন্ন, মুসিন্না জাকাত দিতে হবে। তাবি মানে পূর্ণ এক বছর বয়সের বাছুর। তাবিয়া, পূর্ণ এক বছরের গাভি। মুসিন্ন পূর্ণ দুই বছরের বাছুর। মুসিন্না পূর্ণ দুই বছরের গাভি। ছাগলের জাকাতের পরিমাণ :ছাগলের সংখ্যা ৪০০ বা ততোধিক হলে প্রতি ১০০টিতে একটি ছাগল দিতে হবে। তবে ছাগল পাঁঠা, বৃদ্ধ, অন্ধ বা কানা হলে জাকাত হিসেবে প্রদান করা যাবে না। বাচ্চাকে দুধ দিচ্ছে এমন বকরি, গর্ভবতী ও পালের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ছাগল প্রদান করতে হবে। ভেড়া হলে তার বয়স ছয় মাস হতে হবে। সাধারণ ছাগল হলে এক বছর হতে হবে।
অন্যদিকে জমিন থেকে উত্পন্ন শস্য ও ফলমূলে তিনটি শর্তে জাকাত ওয়াজিব। এক. যেসব শস্যদানা ও ফলমূল ওজন ও গুদামজাত করা যায়। যেমন গম ও যব, আঙুর ও খেজুর। কিন্তু ওজন করা যায় না এমনকি গুদামজাতও করা যায় না, যেমন—শাক-সবজি ইত্যাদিতে কোনো জাকাত নেই। দুই. নিছাব পরিমাণ হওয়া। আর শস্যের নিছাব হচ্ছে ৬৫৩ কেজি অথবা তার চেয়ে বেশি। তিন. জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময় ফসলের মালিক হওয়া। আর বৃষ্টি বা নদীর পানিতে ফসল উত্পন্ন হলে, অর্থাত্ পানি সেচের পরিশ্রম ছাড়া হলে উশর বা শতকরা ১০ ভাগ জাকাত দিতে হবে। কিন্তু কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ফসল উত্পন্ন হলে তাতে উশরের অর্ধেক, অর্থাত্ ৫ ভাগ জাকাত দিতে হবে।
মূল্যবান বস্তুর জাকাত :মূল্যবান বস্তু দুই ভাগে বিভক্ত—এক. স্বর্ণ বা গোল্ড ৮৫ গ্রাম হলে জাকাত দিতে হবে। রুপা বা সিলভার ৫৯৫ গ্রাম হলে জাকাত দিতে হবে। নগদ অর্থ :যদি জাকাত ফরজ হওয়ার সময় সোনা অথবা রুপার যে কোনো একটির সর্বনিম্ন মূল্য পরিমাণ হয়, তবে সেই নগদ অর্থের জাকাত দিতে হবে। জাকাত পাবে যারা :জাকাত পাওয়ার হকদার হলেন—এক. ফকির, দুই. মিসকিন, তিন. জাকাত আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারি, চার. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব, যাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়, পাঁচ. রিকাব অর্থাত্ কৃতদাস, ছয়. গারিমিন অর্থাত্ ঋণগ্রস্ত, সাত. ফি সাবিলিল্লাহ অর্থাত্ আল্লাহর পথের লোক, আট. মুসাফির। এসব লোককে জাকাত দেওয়া খুবই জরুরি।
লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ
