টানা বন্ধের পর মার্কেট খুলে দেওয়ায় হঠাত্ করেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বৃদ্ধি পেয়েছে যান চলাচল। কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে শিথিলতা। শুধু দোকানপাট, শপিংমল খোলার প্রথম দিনেই রাজধানীর পথে পথে মানুষের চলাচল বেড়েছে কয়েক গুণ। গণপরিবহন নেই, তারপরও জট লাগছে ছোট যানবাহনের। সব মিলে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে আগের চিরচেনা রূপে।
সরকারের দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধের সময়কালের এখনো তিন দিন বাকি। গণপরিহনের মধ্যে বাস ছাড়া অন্য সব ধরনের যানবাহনই চলছে। অনেকেই মুভমেন্ট পাশ ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন। মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন চলছে। একজন যাওয়ার কথা থাকলেও যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতেও দেখা গেছে বেশির ভাগ মোটরসাইকেলকে। মোড়ে মোড়ে ডেকে যাত্রীও নিচ্ছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালকরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে উদাসীনতা ছিল লক্ষণীয়। রাজধানীর সাতরাস্তা, মগবাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন ও গুলিস্তান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানপাট খুলে দেওয়ার খবরে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে গ্রামে যাওয়া মানুষ জন। যাদের আছে পেটের টান, আছে জীবিকার তাগিদ। দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকলেও থেমে নেই পারাপার। ভেঙে ভেঙে নানা অভিজ্ঞতা সঙ্গী করে ভিড় বাড়ছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, শিমুলিয়া ফেরিঘাটে। বিকল্প যানবাহনে রাজধানীতে ঢুকেও নিস্তার নেই। কাঠফাটা রোদের মধ্যে হন্যে হয়ে যানবাহন খুঁজতে দেখা গেছে সদ্য ঢাকায় আসা মানুষজনকে। গাদাগাদি করে পিকআপে গন্তব্যে পৌঁছান অনেকে। যাদের সামর্থ্য আছে সিএনজি অটোরিশা ও বাইকে চড়েছেন তারা। অন্যদিকে সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে গাড়ির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও অনেকে মোটরসাইকেলে, প্রাইভেট পিকআপে করে দোকানপাটসহ কর্মস্থলে যান।
ফার্মগেটে কথা হয় সিএনজিচালক রফিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের চেয়ে রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি রয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত মাহফুজ নামের এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, গত কয়েক দিনের চেয়ে রবিবার সড়কে গাড়ি ও মানুষের চাপ বেড়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাহেদ আল মাসুদ জানিয়েছেন, রবিবার সকাল থেকে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। তেজগাঁও লাভ রোড সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি দূরত্বে দুটি ইউলুপ চালু করেছে। কিন্তু ইউলুপ গাড়ির চাপ নিতে পারছে না। আমরা চেষ্টা করছি, এটা সামাল দিতে। গাড়ির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সব গাড়ি চেক করা এবং মুভমেন্ট পাশ আছে কি-না, তা দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে বোরহান নামের এক ব্যক্তি বলেন, লকডাউনের মধ্যে দোকান খুলেছে। শনিবার গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছি। হাতিরপুলে একটি দোকানে কাজ করি। এখান থেকে গুলিস্তান ২০ টাকা ভাড়া। যাত্রীর চাপ থাকায় ২০ টাকার ভাড়া ১২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিল যাবেন মোহাম্মদ ফোরকান। তিনি বলেন, রিকশা ভাড়া ১২০ টাকা চাওয়া হয়েছে। এখান থেকে মতিঝিল রিকশা ভাড়া ৫০ টাকা। এখন ১৮০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
রায়েরবাগে কথা হয় দোকান কর্মচারী আতিয়ার রেহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দোকানে যাওয়ার জন্য রাস্তায় বের হলাম। পুলিশের সামনে যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া আদায় করছে। রায়েরবাগ থেকে নিউ মার্কেট ২৫ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা করে নিচ্ছে। দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে অথচ বাস চলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আর এ সুযোগে সিএনজিসহ বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে।
শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী এলাকায় রিকশাচালকদের সঙ্গে প্যাসেঞ্জারদের দর কষাকষি করতে দেখা গেছে। রিকশাচালকরা ২০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা, ৪০ টাকার ভাড়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন।
রায়েরবাগ চেকপোস্টে দায়িত্বরত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পরিদর্শক মাহমুদ বলেন, পরিবহন সংকটের কারণে বিভিন্ন পরিবহন বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে এ অভিযোগ কেউ করেনি।
