দগ্ধ সাফায়েতের মৃত্যু হাসপাতাল ছাড়লেন তার স্বজনেরা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২৩:০০

রাজধানীর আরমানিটোলা এলাকায় হাজী মুসা ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ সাফায়েত হোসেন মারা গেছেন। গতকাল রবিবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চিকিত্সকরা জানান, আগুনে তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডে মোট পাঁচ জন মারা গেলেন।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে সেখানে চিকিত্সা নিচ্ছিলেন সাফায়েতের মা লায়লা বেগম। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে আর হাসপাতালে থাকতে চাননি। চিকিত্সকদের বলে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আগুনের ঘটনায় আহত সাফায়েতের বাবা দেলোয়ার হোসেন, ভাই শাকির হোসেন, স্ত্রী মিলি আক্তার ও দুই বছরের মেয়ে ইয়াশফাও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে  তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে  জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল।

এদিকে, পুড়ে যাওয়া  হাজী মুসা ম্যানশন থেকে আগামী বৃহস্পতিবার মালামাল সরাতে পারবেন ভবনটির ভাড়াটিয়ারা।  

সাফায়াতের ভাই শাকির হোসেন বলেন, রবিবার সকালে ভাই মারা যান। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর আমার মা আর হাসপাতালে থাকতে চাননি। যদিও  মায়ের শরীরের দুর্বলতা এখনো রয়েছে। এছাড়া আমরা সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছি। আমরা ছাড়া ভাইকে দাফন করার কোনো  লোক নেই। সব প্রক্রিয়া শেষে ভাইয়ের মরদেহ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নিয়ে যাব।

পাঁচ জনকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, আরমানিটোলার আগুনের ঘটনায় বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৪ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন চার জন। এইচডিইউতে আছেন এক জন।  পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে আছেন ৯ জন।

মালপত্র সরাতে পারবেন ভাড়াটিয়ারা

রাসায়নিকে গুদামের লাগা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজী মুসা ম্যানশন ভবনটি ঘটনার পর থেকে সিলগালা করে রেখেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে ঐ ভবনের ১৮টি পরিবারের সব মালামাল ভেতরে থাকলেও পরিবারের সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছেন। তবে পুড়ে যাওয়া হাজী মুসা ম্যানশন থেকে আগামী বৃহস্পতিবার মালামাল সরাতে পারবেন ভবনটির ভাড়াটিয়ারা।  এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে তার স্থানীয় কার্যালয়ে ভাড়াটিয়াদের দেখা করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউন্সিলর। তিনি  জানিয়েছেন, আমরা ভবনের প্রতিটি ভাড়াটিয়ার  সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরই মধ্যে  তারা অনেকেই প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের বাসায় থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র (টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও জমির দলিল) নিয়ে গিয়েছেন।  সিটি করপোরেশনের আঞ্চল-৪ এর কর্মকর্তা হায়দার আলী, লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে শনিবারের সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা চিকিত্সাধীন রয়েছেন, তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে মালামাল নিয়ে যেতে পারেন। বংশাল থানার ওসি শাহিন ফকির  বলেন, ভবনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।