কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ গতকাল রবিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, কওমির ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান ও গুলশান আজাদ মসজিদের খতিব আল্লামা মাহমুদুল হাসান। বৈঠকে কওমি অঙ্গনে বিরাজমান অস্থিরতা থেকে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং ওলামায়ে কেরামের মান বজায় রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কওমি আলেমরা ছয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেগুলো হলো—কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে একমাত্র আল-হাইআতুল উলয়া। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আল-হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্ত ব্যতীত পৃথকভাবে কওমি মাদ্রাসাবিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপ বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে না। কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে। কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন পাঁচ বোর্ডের পাঁচ জন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া থেকে পাঁচ জন এবং চেয়ারম্যান মনোনীত পাঁচ জন সমন্বয়ে মোট ১৫ জনের একটি ‘বাস্তবায়ন সাব-কমিটি’ গঠিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসার যেসব নিরীহ ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের গ্রেফতার করা হয়েছে, রমজানে রহমতের মাস বিবেচনায় তাদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া রমজানের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে হিফজ ও মক্তব বিভাগ খুলে দেওয়া এবং রমজানের পর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাকার্যক্রম চালু করার জন্য সরকারের কাছে বিশেষভাবে আবেদন করা হয়। এদিকে সভার সিদ্ধান্ত সরকারকে অবহিত করার জন্য তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করবে বলে জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মাওলানা ছফিউল্লাহ, মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুছলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব, মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুফতি নূরুল আমীন, মাওলানা মুফতি জসীমুদ্দীন।
বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গার সভাপতি মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন, মহাসচিব মাওলানা শামসুল হক; আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসের সভাপতি মাওলানা সুলতান যওকের প্রতিনিধি মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল, মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারীর প্রতিনিধি মাওলানা উবায়দুল্লাহ হামযাহ, আযাদ দীনী এদারায়ে তা‘লীম এর সভাপতি মাওলানা জিয়াউদ্দীন এর প্রতিনিধি মাওলানা এনামুল হক, মহাসচিব মাওলানা আব্দুল বছীর, তানজীমুল মাদারিসের সভাপতি মাওলানা মুফতি আরশাদ রাহমানী, মহাসচিব মাওলানা ইউনুস এবং জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের প্রতিনিধি মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ ও মহাসচিব মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
