আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা চেয়ে প্রতিপক্ষের ২৮ ব্যক্তি থানায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আবেদন করেছেন।
তবে এগুলো এখনো নথিভুক্ত হয়নি বলে শনিবার জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ ২৮ জন ব্যক্তি নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন। কিন্তু একই বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ছাড়া গণহারে জিডির সুযোগ নেই। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, তার স্ত্রী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রশিদ মঞ্জুসহ ২৮ জন কাদের মির্জার বিরুদ্ধে জিডির আবেদন করেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত বলেন, কাদের মির্জা গত ২০ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে বলেছেন, ‘হত্যার বদলে হত্যা করা হবে’। এরই মধ্যে তার সন্ত্রাসীদের আক্রমণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী পঙ্গুত্ব বরণ করার পথে। তাই নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে জিডির আবেদন করেছি।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, কাদের মির্জা বলেছেন, রক্তের হোলিখেলা চলবে। এরই মধ্যে একজন সাংবাদিকসহ আমাদের দুই কর্মীকে তার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে। তাই আমি নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছি।
উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল বলেন, কাদের মির্জা ফেসবুক লাইভে আমার শিশুপুত্রের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তার ছেলের উপর যখন আক্রমণ হয়েছে তখন তিনি কারো ছেলেকে রেহাই দিবেন না। এতে আমি ভীত হয়ে জিডির আবেদন করেছি।
এদিকে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন জানান, তিনিসহ আরো ১৫ জন নিরাপত্তা চেয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ওবায়দুল কাদেরের বোনের বাসায় ককটেল হামলা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বোনের বাসায় দুর্বৃত্তদের ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাসা থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কেজি স্কুল সংলগ্ন ঐ বাসায় দুর্বৃত্তরা ককটেল হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীর ভাগিনা হুমায়ুন রশিদ মিরাজ। সন্ত্রাসীরা চার-পাঁচটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঐ বাসাসহ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, সেতুমন্ত্রীর ভাগিনা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুর রশিদ মঞ্জু ঐ বাসায় থাকেন। হামলার সময় মঞ্জু বাসার বাইরে ছিলেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি ককটেল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের পুলিশের একটি টিম সেখানে কাজ করছে, গুলির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল রাতে ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির দরজায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে এবং বেশ কয়েক জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে।
কাদের মির্জার অনুসারীর পায়ে গুলি
বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী জামাল উদ্দিন (৫৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ কাদের মির্জা। শনিবার রাতে কাদের মির্জা অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে কাদের মির্জার অনুসারীরা তার পক্ষে মিছিল করতে গেলে সেখানে সাবেক কাউন্সিলর মোশারেফ হোসেন নাহিদ জামাল উদ্দিনকে গুলি করে। গুলিটি জামাল উদ্দিনের পায়ে লাগে।
