টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হলেও ঝুঁকি কম

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২৩:০০

প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণকারী ২০০ জনের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টিকা নেয়নি তাদের তুলনায় করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীরা করোনা আক্রান্ত হলেও তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কম । 

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ভিসি প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে একদল গবেষক। গবেষকদের দাবি, অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে করোনায় আক্রান্তদের হার নিম্নমুখী করার পাশাপাশি কেউ যদি করোনা রোগে আক্রান্ত হয় তবে নিঃসন্দেহে তার মৃত্যুঝুঁকি কম হবে।

সিভাসু করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ১৪৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয় যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ২০০ জন অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড নামে ১ম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। তাদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণা দলের অন্য সদস্যরা হলেন—প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রণেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. তানভির আহমেদ নিজামী।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম ডোজ গ্রহণকারীরা করোনায় আক্রান্ত হলেও যারা টিকা গ্রহণ করেনি তাদের তুলনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললেই চলে। আক্রান্ত ২০০ জনের মধ্যে ১৬৫ (৮২.৫ শতাংশ) রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিতে হয়নি। অবশিষ্ট ৩৫ (১৭.৫ শতাংশ) রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলেও তাদের মধ্যে কোনো ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি পরিলক্ষিত হয়নি।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপসর্গ হলো শ্বাসকষ্ট যার কারণে অধিকাংশ রোগীর মৃত্যু হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ১১৭ জনের (৮৮.৫ শতাংশ) কোনো শ্বাসকষ্ট পরিলক্ষিত হয়নি। সেই সঙ্গে ১৮৪ (৯২ শতাংশ) রোগীর কোনো অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়নি। বয়সের তারতম্য, বার্ধক্যজনিত কারণ ও বিভিন্ন কো-মরবিডিটির কারণে বাকি রোগীদের শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়েছে।

গবেষণার ইতিবাচক দিক হচ্ছে—২০০ জন ১ম ডোজ টিকা গ্রহণকারী করোনায় আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র একজন (০.৫ শতাংশ) রোগীর আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়েছে এবং ছয় দিন পর তার মৃত্যু হয়, যার বয়স ছিল ৪৮ বছর। ঐ ব্যক্তির গত দুই বছর আগে কিডনি রোগের জটিলতার কারণে কিডনি প্রতিস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়। অবশিষ্টদের মধ্যে এই পর্যন্ত ১৯০ জন রোগীর ২য় বার কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল পাওয়া গেছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন। বাকি ৯ জন কোভিড-১৯ রোগীর তীব্র কোনো উপসর্গ ও শারীরিক সমস্যা না থাকায় বর্তমানে বাসায় থেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন।