আমাদের পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে নীলনকশা তৈরি হয়েছে :কাদের মির্জা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২৩:০১

নোয়াখালী বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন আমি কয়েকবার কোম্পানীগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১১টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছি কিন্তু তার বিপরীতে আজকে এই নোয়াখালী ও ফেনীতে আমার পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্রের একটি নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। সেই নীল নকশা মোতাবেক ইতিমধ্যে কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে।’ শনিবার রাত ১০টায় কাদের মির্জা তার অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এমন দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর এমপি একরামুল করিম চৌধুরী এখন দুবাইতে অবস্থান করছে। দুবাই যাওয়ার আগে অপরাজনীতির হোতা একরাম, ফেনীর নিজাম হাজারী, দুর্নীতিবাজ সচিব বেলায়েতসহ ঢাকায় একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। সে বৈঠকে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওবায়দুল কাদেরকে রাজনীতি থেকে সরাবে এবং আমার ছেলে তাশিক মির্জা ও ছোট ভাই শাহাদাতকে তারা হত্যা করবে। একরাম তাদের পরিকল্পনা কোম্পানীগঞ্জের বাদলকে (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) জানিয়ে বলেছে, তোমরা বৈঠক করে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘মাদক সম্রাট মঞ্জুর (ভাগিনা) বাসায় বাদলসহ এখানকার সব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।  তারা বৈঠক করে মঞ্জুকে দলের মুখপাত্র করেছে। এজন্য একরাম চৌধুরী তাকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছে। তারপর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আমার ছেলে ও ছোট ভাইকে হত্যা করা হবে, ওবায়দুল কাদেরের রাজনীতি নোয়াখালী থেকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠানো হবে। এর মূল কারণ হচ্ছে একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে খবর এসেছে যে, উনি আর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন না এবং নিজাম হাজারী খবর পেয়েছে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে উনি আর মনোনয়ন পাচ্ছেন না। একরাম চৌধুরী দুবাইতে বসে আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা করার জন্য কিলিং গ্রুপ সৃষ্টি করেছে। বাদলকে নিজাম হাজারী বলেছে মির্জা ও তার পরিবারকে খুন করার সময় তুমি দেশের বাইরে থাকবে।’ তিনি বলেন, আজকে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের নাম আপনাদেরকে জানাতে হবে। তাই আমার লাইভে আসা।’ মেয়র বলেন, আজকে (শনিবার) শুনলাম কোম্পানীগঞ্জের ‘কুলাঙ্গাররা’ নাকি  ঢাকায় গিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি) নুরনবী চৌধুরীকে দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টা করেছে। উদ্দেশ্য ছিল আমার ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা। কিন্তু কী কারণে তারা এতে ব্যর্থ হয়েছে তা জানি না। এরপর তারা সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেছে। মন্ত্রী তাদেরকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে পাঠিয়েছেন। একটু আগে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি আমাকে ফোন করলে আমি বলেছি, আমি তো আর দল করি না। আমি অপরাজনীতির সঙ্গে নেই—এ কথা বলে আমি ফোন কেটে দিয়েছি। ওবায়দুল কাদেরের সংসার তিনি কীভাবে সাজাবেন সেটা তার ব্যাপার। এসব সমন্বয় করছে সেতুমন্ত্রীর সহকারী নুরুল করিম জুয়েল, সেই তাদেরকে ঢাকায় প্রেস ক্লাবে নিয়ে গেছে। কাদের মির্জা বলেন, ‘রাহাত (ভাগিনা) এত দিন ওবায়দুল কাদেরের পক্ষে ছিল। এখন সে একরাম চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মাইজদী, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জে মিছিল মিটিং করার জন্য। সচিব বেলায়েত ও আমার ভাগিনা লে. কর্নেল ফখরুদ্দিন টুইংকেল গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ওবায়দুল কাদেরকে সরানোর জন্য, আমাদেরকে হত্যা করার জন্য।’ 

মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের সব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছেন। গরিবের জন্য ৭০ হাজার ঘর নির্মাণ করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।