সাংবাদিকদের ডিসি হারুন

পাকিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন মামুনুল

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:৩৫

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় জড়িত জঙ্গিদের ‘ঘনিষ্ঠ’ ছিলেন দাবি করে পুলিশ বলছে, তাদের এক জনের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস পাকিস্তানেও ছিলেন তিনি। গতকাল রবিবার এক ব্রিফিংয়ে এমন কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের  তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ। তিনি আরো বলেন, মামুনুল হকের জব্দ করা মোবাইল ফোন থেকে বাবরি মসজিদের নামে কাতার, দুবাই ও পাকিস্তান থেকে টাকা আনার তথ্য-প্রমাণও মিলেছে।

সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদকালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলটির কেন্দ্রীয় এই নেতার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের তথ্যও জানতে পেরেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। উপ-কমিশনার হারুন বলেন, পাকিস্তানের একটি সংগঠনের আদলে দেশে হেফাজতে ইসলাম পরিচালনা করছিলেন মামুনুল। তিনি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী ছিলেন। জামায়াতের সহায়তায় বর্তমান সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা ছিল তার।

জিজ্ঞাসাবাদে ‘জঙ্গিবাদের’ সঙ্গে মামুনুলের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে উল্লেখ করে উপ-কমিশনার হারুন জানান, তার ভগ্নীপতি মাওলানা মুফতি নেয়ামত উদ্দিন, মাওলানা তাজউদ্দীন ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, একবার  নেয়ামত উদ্দিন গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তাকে পরে ছাড়িয়ে আনে। এই নেয়ামতের সঙ্গে ২০০৫ সালে পাকিস্তানে গিয়ে ৪৫ দিন ছিলেন মামুনুল। সেখানে বিভিন্ন জঙ্গি-রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তখন  যোগাযোগ করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা হারুন আরো বলেন, দেশের বাইরে থেকে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও লক্ষ কোটি টাকা এনে সে বিভিন্ন মসজিদে-মাদ্রাসায় জঙ্গি উগ্রবাদী কাজে ব্যবহার করতেন। হেফাজতে ইসলামের কয়েক নেতাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা শনিবার জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলমও। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ‘তেহেরিক-ই-লাব্বায়িক’ নামের সংগঠনের আদলে তারা হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশকে গঠন করে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো এ দেশকে গড়ে তুলতে চায়। যার পেছনে জামায়াত-শিবিরের সম্পর্ক রয়েছে।

উপ-কমিশনার হারুন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি শরিফুল হক ডালিমের সঙ্গে মামুনুল হকের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তার শ্বশুরের আপন ভায়রা ভাই হচ্ছেন মেজর ডালিম। মামুনুল হক হেফাজতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফয়দা নেওয়ার পাঁয়তারা করছিলেন মামুনুল।

মামুনুল হকের ‘দ্বিতীয় স্ত্রীর’ বাবাকে ঢাকায় আনল ডিবি : হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমানকে ঢাকায় এনেছেন ডিবির সদস্যরা। আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানা থেকে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। তবে ওলিয়ার রহমানকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। ওলিয়ার রহমান আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তাকে বহিষ্কার করা হয়।