মেধা, যোগ্যতা আর পরিশ্রমে এরইমধ্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। ছোট-বড় দুই পর্দাতেই চলছে তার নিয়মিত পদচারণা। শোবিজের নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
ঈদের বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত আছি। কিছু কাজ শেষ করেছি, কিছু এখনো করছি। ঠিক কী নামে কতগুলো নাটক প্রচার হবে জানি না।
করোনায় আমরা শোবিজের অনেককেই হারিয়েছি। তারপরও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
দেখুন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছি। শিল্পীরা সবাই প্রায় সচেতন। আর আমার মনে হয় ঘরে বসে থাকলেই যে বেঁচে থাকবো বিষয়টি আসলে এমন না। যেখানে রুটি-রুজি রয়েছে সেখানে তো যেতেই হবে। তাছাড়া আমাদের শোবিজে যারা ডেইলি কাজ করে দিন চালায়, আমরা কাজ না করলে তারা জীবন চালাবে কী করে!
সম্প্রতি আপনি একটি চলচ্চিত্র উত্সবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করলেন। এ নিয়ে জানতে চাই—
এটি আসলে খুব বড় একটি প্লাটফর্ম তা না। উত্সবটিতে বেশ কয়েকটি দেশের চলচ্চিত্র অংশ নেয়। যদিও আমার এই কাজটিতে উপস্থিতি কম ছিল, কিন্তু গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল। যেটা দেখে তাদের মনে হয়েছে আমি পুরস্কারটি পাওয়ার যোগ্য। খুবই ভালো লাগছে দর্শক, নির্মাতা ও বিচারকদের এই মূল্যায়ন।
ক্যারিয়ারের শুরু হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তখনকার কাজের সঙ্গে এখন কতটা পার্থক্য খুঁজে পান?
তখন তো না বুঝেই অভিনয় করতাম। কিন্তু এখন অনেককিছুই বুঝি। তবে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ মানেই অন্যরকম অভিজ্ঞতা ছিল। যেটা আজকে মনিরা মিঠু হতে কাজে লেগেছে, এখনো লাগছে।
মনিরা মিঠু আপা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কতটা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে?
প্রতিকূলতার সম্মুখীন তখনো হয়েছি, এখনো হচ্ছি। আমরা যারা ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করি তাদের নানাভাবেই অবমূল্যায়ন-অবজ্ঞা করা হয়। আমাদের ক্ষেত্রে আগে সেটে আসতে হবে, দেরিতে যেতে হবে, এসে চরিত্র পরিবর্তন হলেও মুখ বুঝে মেনে নিতে হবে। এমনকি কস্টিউমও আমাকেই কিনতে হতো। তাছাড়া আমি তো মঞ্চ থেকে আসিনি, তাই সেই জায়গাও কেউ দিতে চায়নি। আর্থিক, মানসিক, শারীরিক কষ্ট করেই একটু একটু করে জায়গা তৈরি করছি।
অনেকই বলেন নিজেস্ব ঘরানার শিল্পী ছাড়া নির্মাতা-প্রযোজকরা কাজ করতে চান না। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
কিছু কিছু পরিচালক এমন আছেন এটা সত্য কথা। আমাকে এখনো অনেক নির্মাতা কাজে ডাকেন না।
আপনি নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করছেন। কোন মাধ্যমের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করেন?
আমি দুই মাধ্যমেই নিজেকে যোগ্য মনে করি। কিন্তু চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে আমার পেরে ওঠা হয় না। কারণ পারিশ্রমিক! হয় চরিত্র ভালো দিতে হবে, না হলে পারিশ্রমিক! আপোস করলে বছরে ১২টা ছবি করতে পারতাম। কিন্তু নিজেকে আমি ঠকাতে চাই না।
উন্মুক্ত মাধ্যমের কারণে দিনদিন নাটক সৃজনশীলতা হারাচ্ছে। এ নিয়ে কী বলবেন?
এখন ব্যাঙের ছাতার মতো ইউটিউব চ্যানেল হয়েছে। কিন্তু এটাকে আমি মানহীন কাজের কারণ বলবো না। মূল কারণ হলো, চ্যানেলগুলোর বাজেট কম দেওয়া এবং নির্ধারিত শিল্পীর বাইরে কাজ করতে না দেওয়া।
অনেকেই এখন নাটক, সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজের দিকে ঝুঁকছেন। এই মাধ্যমটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
এই মাধ্যম নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক ভালো কাজ আমরা পেতে পারি। এরইমধ্যে মেধাবী নির্মাতা-শিল্পীরা অনেক ভালো কাজ করছেন। কারণ এখানে সময় নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি নেতিবাচক যে আলোচনা হতো সেটা চমত্কারভাবে এখন বর্জন করা হচ্ছে।
