গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে না চাওয়ায় মোসলেমাকে হত্যা করে প্রেমিক

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৪

মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা

মিঠাপুকুরে স্কুলছাত্রী মোসলেমা খাতুন (১৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। প্রেমের সম্পর্ক একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে গড়ালে গর্ভবতী হয়ে পড়ে মোসলেমা। কিন্তু গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে না চাওয়ায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে প্রেমিক। এই হত্যায় জড়িত নাহিদ হাসান (২২) নামে ঐ প্রেমিককে শনিবার মধ্যরাতে আটক করে পুলিশ। নাহিদ হাসান উপজেলার দলসিংহপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) কামরুজ্জামান রবিবার রাতে এক প্রেস বার্তায় জানান, পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে মোসলেমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। রবিবার বিকালে নাহিদ হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে নাহিদ জানায়, মোসলেমা খাতুন সম্পর্কে তার চাচাতো বোন। তাদের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয় তাদের। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর নাহিদ দিনাজপুরে চাকরিতে চলে যায়। ১৫ দিন আগে মোসলেমা নাহিদকে জানায় সে গর্ভবতী। কিন্তু নাহিদ তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। ঘটনার দিন (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাহিদকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলে মোসলেমা। কিন্তু নাহিদ আসতে চায়নি। মোসলেমা বারবার জিদ করলে সে দেখা করতে রাজি হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে গিয়ে তারা দেখা করে। এ সময় মোসলেমা তার গর্ভের বাচ্চা রাখতে চেয়ে বিয়ের দাবি করেন। কিন্তু নাহিদ এতে রাজি হয়নি। সে যে কোনোভাবে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। মোসলেমা এতে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে নাহিদ রেগে গিয়ে ভুট্টাখেতেই তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। এরপর বাসায় চলে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন নাহিদ। বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।