‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ধান কাটা শুরু

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪০

বিশ্বের সর্ববৃহত্ ক্রপ ফিল্ড মোজাইক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেওয়া ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ শিল্পকর্মের ধান কাটা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় বগুড়ার শেরপুরের বালেন্দা গ্রামে শতবিঘা জমিতে ধান কাটা উত্সবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। উত্সবের উদ্বোধক ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয়  পরিষদ আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ।

বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্য সচিব কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান সিআইপি। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন, এ কে এম আসাদুর রহমান দুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতৃবৃন্দ ধান কাটা উত্সবের উদ্বোধন করেন। এ জমি থেকে প্রাপ্ত ধান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বালেন্দার মাঠে উদ্বোধন করা হয় ধান রোপণের। বালেন্দা গ্রামের শত বিঘা জমিতে শুরু হয় শস্যচিত্র তৈরির কাজ। ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় চীন থেকে আনা ডিপ ভায়োলেট রঙের হাইব্রিড ও দেশের ‘জনকরাজ’ নামের ডিপ গ্রিন ধানের বীজ থেকে চারা উত্পাদন করা হয়। উত্পাদিত ধানের চারা রোপণ করার এক মাসেই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে ফুটে উঠে বিশ্বের সর্ববৃহত্ শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। ৯ মার্চ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর দুই জন প্রতিনিধি পরিদর্শন করেন, ১৬ মার্চ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ ‘লার্জেস্ট ক্রপ ফিল্ড মোজাইক (ইমেজ)’ শাখায় নতুন বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার নামে একটি কোম্পানির অর্থায়নে প্রতিকৃতিটি তৈরি করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বগুড়ার শেরপুরের নিভৃত পল্লির বালেন্দা গ্রামে ৪০ একর জমি লিজ নেয়। পরে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যদের নিয়ে লে-আউট তৈরি করে। ১০০ জন রেজিমেন্ট বিএনসিসি সদস্যের দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চারা রোপণ করেন। একদল শুকনো জমিতে চীনের চু-চিং জং-ই সিড কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত গাঢ় বেগুনী ও  বাংলাদেশের ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার কোম্পানি জনকরাজ (সবুজ) ‘দুই জাতের (হাইব্রিড) ধানের চারায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলেন।