আট বছর আগে ও সম্প্রতি হেফাজতে তাণ্ডবের পৃথক ঘটনায় মতিঝিল ও পল্টন থানার মামলায় সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানার নাশকতার মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার তাকে হাজির করে আরো দুই মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী মতিঝিল থানার মামলায় তিন দিন ও পল্টন থানার মামলায় চার দিন করে মোট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় মামুনুল কাঠগড়ায় ছিলেন।
মামুনুলের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, আমরা তার রিমান্ড বাতিল চেয়েছিলাম। কিন্তু শুনানি নিয়ে তা নাকচ করা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের উদ্দেশে মামুনুল বলতে থাকেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ভিডিও ফুটেজে তাকে (মামুনুল) দেখা গেছে। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন।
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের সময় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মতিঝিল থানার মামলা ও চলতি বছরের মার্চে বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় পল্টন থানায় এই দুটি মামলা করা হয়। ১৮ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। ঐ রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে আবার আদালতে হাজির করা হয়।
হেফাজত নেতা জুনায়েদ ও জালালও রিমান্ডে : একই বিচারক এদিন পল্টন থানার দুটি ও মতিঝিল থানার একটি মামলায় হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ হাবিবীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরেক নেতা মাওলানা জালাল উদ্দিনকে পল্টন ও মতিঝিল থানার দুই মামলায় ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে মোট ছয় দিন মঞ্জুর করেন বিচারক। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু এসব তথ্য জানিয়েছেন।
