করোনা মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন চেয়ে রিট

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:১৮

মহামারি করোনা মোকাবিলায় স্বল্প, মাঝারি এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিকের জন্য করোনার টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে রিটে আবেদন জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দাখিল করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা ভাইরাস আরো বেশি আগ্রাসি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে এবং শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়তই তার রূপ পালটে নতুন নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। বিভিন্ন স্টাডি ও গবেষণার রিপোর্ট থেকে প্রতীয়মান হয় যে, করোনা ভাইরাস শিগগিরই নির্মূল হচ্ছে না। বরং এটি আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর স্থায়ী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা। ভারতের মতো পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সরকারকে এখনই স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ মেয়াদি সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রিটে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ৪০ বছরের বয়স সীমা নির্ধারণ করায় এর নিচের বয়সি যারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কাজেই যারা ৪০ বছরের নিচে অথচ বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় রয়েছেন তাদেরকেও বয়স বিবেচনা না করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবনধারণের অধিকার প্রত্যেকটি মানুষের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। সবাইকে মরণঘাতী ভাইরাসের টিকা প্রদান করা সরকারের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব এবং প্রত্যেক নাগরিকের এই টিকা পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার।

এর আগে সরকারকে নোটিশ দিয়েছিল রিটকারীরা। কিন্তু নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংস্থা ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ  কাওছার।