স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে
নরসিংদী প্রতিনিধি
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র পানিসংকট দেখা দিয়েছে। শহরাঞ্চলের বেশির ভাগ বাসাবাড়ির সেচপাম্প ও নলকূপ দিয়ে পানি উঠানো যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও গভীর নলকূপেও তোলা যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় পানি। দাবদাহে এ অবস্থা আরো প্রকট আকার ধারণ করায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের বাসাবাড়ির বাসিন্দাসহ অন্যরা। এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টি শুরু হলে সমস্যা কেটে যাবে।
ভুক্তভোগীরা জানান, শুধু অগভীর নলকূপে নয়, শহর এলাকায় গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেও পানির সন্ধান মিলছে না। এতে দাবদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিসংকটও বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার সামসুল ইসলাম এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী ও জগদীশ সাহার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংদী জেলায় সাধারণত পানির স্তর গড়ে ২২ থেকে ২৮ ফুট গভীরে। গ্রীষ্মকালে এই স্তর থাকে ২৮ থেকে ৩৫ ফুট। প্রায় এক যুগ ধরে পরিবেশগত নানা কারণে জেলার বেশির ভাগ এলাকায় বিশেষ করে জেলা শহর ও শিল্পাঞ্চলে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। প্রতি বছর দাবদাহ তীব্র হওয়ার সময়টাতে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এ অবস্থা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। প্রতি বছরের মতো এবারও জেলার বেশির ভাগ এলাকার অগভীর নলকূপে পানি ওঠা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে নরসিংদী পৌর শহর এলাকা, শিল্প শহর মাধবদী, পঁচাদোনা, পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ও আশপাশের এলাকায় পানিসংকট চরমে পৌঁছেছে। খাবার সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লোকজনকে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, নরসিংদী জেলা শিল্পাঞ্চল জোন হওয়ায় ভূ-গর্ভ স্তর থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন করা হয়। সমস্যা সমাধানে হস্তচালিত টিউবওয়েলের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকামতে গভীর নলকূপ সাবমার্সেবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কয়েক মাস এ সমস্যা চলমান থাকলেও বৃষ্টি হলে সমস্যা কেটে যাবে।
