তাড়াশে হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা বিপাকে
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
তাড়াশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ডিমের দামে বিক্রি হচ্ছে হাঁসের বাচ্চা। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা।
একটা সময়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতেন তাড়া উপজেলার মকুল হোসেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি হারিকেন বাতির হ্যাচারি করে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। এখন হারিকেন বাতির উত্তাপে এক মাসেই তার হ্যাচারিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ডিমের হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মকুলের মতো তাড়াশ উপজেলার দুই শতাধিক হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ী। একটি ডিম ১২ টাকায় কিনে বাচ্চা ফুটানোর পর তা ডিমের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আর কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাজারও মানুষ। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন বলেন, মাচায় ডিম দেওয়ার ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হারিকেন বাতির উত্তাপে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এই সময়ের মধ্যে ডিমের দাম বাদেও আনুসঙ্গিক আরো অনেক টাকা খরচ গুনতে হয়। আগে এক দিন বয়সের একটি হাঁসের বাচ্চা ২৬ টাকায় বিক্রি করা হতো। কিন্তু করোনার কারণে বিধিনিষেধে প্রতিটি বাচ্চা মাত্র ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরজমিনে কাজিপুর গ্রামের মুকুলের হ্যাচারি, বিরৌহালী গ্রামের ছাইফুলের হ্যাচারি, আব্দুর রহমানের হ্যাচারি, মহেষ রৌহালী গ্রামের আলিমের হ্যাচারিসহ বেশ কয়েকটি হারিকেন বাতির হ্যাচারিতে দেখা গেছে, বাঁশের মাচার ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে লাখ লাখ হাঁসের ডিম। এসব ডিম লেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর মাচার নিচে প্রয়োজনীয়সংখ্যক হ্যারিকেন বসিয়ে পরিমাণমতো তাপ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময় শেষে ডিম ফুটে হাঁসের বাচ্চা বেড় হচ্ছে। প্রতিটি হ্যাচারিতেই ডিম ও বাচ্চার পরিচর্যার কাজ করছেন ছয় থেকে সাত জন করে শ্রমিক। নওগাঁ ইউনিয়নের বিরৌহালী গ্রামের হ্যাচারি ব্যবসায়ী ছাইফুল ফকির বলেন, সাধারণত গরমের মৌসুমে অধিকসংখ্যক হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়। এখন উপজেলার কমপক্ষে দুই শতাধিক হ্যারিকেন হ্যাচারিতে ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসব বাচ্চা কেনার জন্য হাঁসের খামারি ও পাইকাররা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। শুধু দেশের বিভিন্ন জেলায়ই নয়, কুষ্টিয়া-যশোর হয়ে হারিকেন বাতির উত্তাপে ফুটানো হাঁসের বাচ্চা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও যায়। কিন্তু যানবাহন চলাচল না করায় বাচ্চা বিক্রি করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন যে, হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের পথে বসার মতো অবস্থা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল আলম বলেন, হাঁসের ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাগুলো আপাতত হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের কাছে রেখে লকডাউন খোলার পর বিক্রি করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হ্যাচারিতে নতুন করে ডিম ফুটানো যাবে না।
