হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক বিক্ষোভ কর্মসূচি ও হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের তাণ্ডবে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বমোট ছয় জন হেফাজতকর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উক্ত সহিংস ঘটনাসমূহের প্রাপ্ত স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। তন্মধ্যে গত ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন টিএ রোড এলাকায় তাণ্ডবে জড়িত সাদেকপুর ইউনিয়ন ছাত্র ওলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি, কারি মো. মোজাম্মেল হক এবং আশুগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ও টায়ারে আগুন দিয়ে পিকেটিংয়ে জড়িত আশুগঞ্জ উপজেলার হেফাজত ইসলাম ও ইমাম পরিষদ সেক্রেটারি, মাওলানা মুফতি ওবায়দুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হেফাজতের তাণ্ডবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি ও সরাইল থানায় ২টিসহ সর্বমোট ৫৫টি মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলায় ৪১৪ জন এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ হাজার লোকের নামে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সর্বমোট ৩৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের প্রেসরিলিজে জানানো হয়েছে।
জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া
মাদ্রাসার ২০ ছাত্র বহিষ্কার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব চলাকালে গত ২৬ মার্চ সরকারি স্থাপনায় হামলার অভিযোগে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস বিভাগের ২০ ছাত্রকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব মুফতি সামসুল হক সরাইলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বাহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা সবাই জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ২০২০-২০২১ ঈসায়ী শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। বহিষ্কৃতরা হলেন আশেক এলাহি, আবু হানিফ, মিছবাহউদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, মবকুল হুসেন, রফিকুল ইসলাম, মুবারকুল্লাহ, বোরহান উদ্দিন, আবদুল্লাহ আবজাল, মো. জুবায়ের, হিজবুল্লাহ রাহমানী, জুবায়ের, শিব্বির আহমদ, ইফতেখার আদনান, সাইফুল ইসলাম, মো. সোলাইমান, রাকিব বিল্লাহ, তারেক জামিল ও মো. হাবিবুল্লাহ। এ ব্যাপারে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবদুল হক বলেন, ২৬ মার্চ মাদ্রাসার শিক্ষকদের বাধানিষেধ উপেক্ষা করে তারা সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাই তাদের মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
