মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২৩:৩৭

আজ রমজানের পঞ্চদশ দিন। করোনাকালীন আইসোলেটিং পৃথিবীতে আমরা কেউ কি সুস্থ আছি? করোনাকালীন কোয়ারেন্টাইনের পৃথিবীতে আমরা কেউ কি সুস্থ আছি? নিশ্চয়ই এ প্রশ্নের উত্তর একমাত্র মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারো দেওয়ার ক্ষমতা বা জ্ঞান নেই। করোনা ভাইরাসকালীন মানুষের রক্ত পজিটিভ না নেগেটিভ—টেস্ট রিপোর্টের সেই হতাশায় ঘুরপাক খাচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন। কারো করোনা ভাইরাস হোক বা না হোক, আমরা সবাই যেন করোনার রোগী হয়ে গেছি। আজ কারো করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলো তো আগামীকাল হতে পারে পজিটিভ। অর্থাত্ রক্তের পজিটিভ-নেগেটিভের বেড়াজালের      রোগে আমরা কেউ না কেউ ভুগছি।

ইতিমধ্যে দুনিয়ার বাজারে করোনা ভাইরাসের টিকা এসেছে। বাংলাদেশের মানুষও টিকালাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছে। কিন্তু সেই করোনা ভাইরাসের টিকাটাও আশা-নিরাশার দোলাচলে দোল খাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের টিকা সাময়িক গ্লানি থেকে মনকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া যেন আর কিছু নয়। আকাশের যেমন রং পরিবর্তন হয়, ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাসেরও রং পরিবর্তন হয়। গিরগিটি যেমন রং বদলায়, ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাসও রং বদলায়। অতীতে পজিটিভ যে বিষয় ছিল হা-সূচক, অর্থাত্ গুডলাক। এখন নাকি করোনাকালীন টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ হলে হা-সূচক। সবই যেন উলটাপালটা। করোনা ভাইরাস থেকে আমরা বাঁচার জন্য মহান আল্লাহর কাছে যে দোয়া পাঠ করি, সেটা হলো—আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারছি, ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন ছাইয়িল আছকাম। অর্থাত্, হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সব ধরনের কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আবু দাউদ, তিরমিজি) এখানে স্মর্তব্য যে, দোয়ার একটা অংশ হলো ‘মিনাল জুনুনি’ অর্থাত্ পাগলামি থেকে আশ্রয় চাই। মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়ভীতি ও ক্ষুধা দিয়ে, অভাব দিয়ে। আরো ও পরীক্ষা করব সম্পদ, প্রাণ ও ফসলের ঘাটতি করে। এসব ক্ষেত্রে যারা ধৈর্য ধারণ করে, আপনি তাদের সুসংবাদ প্রদান করুন। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৫৫।)

যারা মনে করে যে, নেক লোকদের কোনো বিপদ নেই, আসলে তাদের সেই ধারণা ভুল। বরং বিপদ, মুছিবতই হচ্ছে ইমানের পরিচয়। রসুলে পাক (স.)কে প্রশ্ন করা হলো, কোন মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হয়? রসুল (স.) উওর দিলেন, নবিগণ, তারপর নেককারগণ, তারপর তাদের নিকটবর্তীগণ। ধর্মের দৃঢ়তা অনুযায়ী মানুষকে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ধর্মীয় দিক থেকে যদি সুদৃঢ় হয়, তবে তার বিপদ-আপদও বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। তার ধর্মীয় দিক যদি হালকা হয়, তবে তার বিপদ-আপদও হালকা ধরনের হয়। (ইবনে মাজাহ শরিফ)। বিপদ-আপদ হচ্ছে বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার একটি অন্যতম আলামত। রসুল (স.) বলেন, ‘ওয়া ইন্নাল্লাহা ইযা আহাব্বা কাওমান ইবতালাহুম।’ অর্থাত্ আল্লাহপাক যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদের বিপদে আক্রান্ত করেন। (তিরমিজি)।

এ ছাড়া বিপদাপদ হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর কল্যাণের একটি পরিচয়। রসুল (স.) বলেন, আল্লাহ যখন তার বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তখন গুনাহ করার পরও তাকে শাস্তি প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন। অতঃপর সেই শাস্তি কিয়ামত দিবসে পূর্ণরূপে দান করেন। (তিরমিজি) বিপদ-মছিবত সামান্য হলেও তা গুনাহ মাফ হওয়ার উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। নবি করিম (স.) এরশাদ করেন, কোনো মুসলমান যদি কাঁটা দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা তার চেয়ে কোনো বড় বিপদে পড়ে, তবে এমনভাবে আল্লাহ তা দ্বারা পাপকে মোচন করেন, যেমন গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে। (বুখারি ও মুসলিম) মহান আল্লাহপাক করোনা ভাইরাসকালীন আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধারণসহ ঈমানের ওপর মুজবত থাকার তওফিক দান করুন। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবার সহায় হোন, আমিন।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ