জনপ্রিয় হচ্ছে সরকারের লিগ্যাল এইড কার্যক্রম

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:২৩

বিস্তৃত পরিসরে আইনি সহায়তা সেবা দিচ্ছে সরকার। করোনাকালেও বন্ধ নেই এই সেবা। কারাবন্দিদের আইনগত সহায়তা ছাড়াও শ্রমিকদের জন্য চালু করা হয়েছে শ্রমিক সহায়তা সেল। আর বিকল্প বিরোধ পদ্ধতি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে মামলার পক্ষগণের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করেও বজায় থাকছে সুসম্পর্ক। আদায় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ফলে সময়ের ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় হচ্ছে সরকারি লিগ্যাল এইড কার্যক্রম।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। করোনাকালে সীমিত পরিসরে দিবসটি উদ্যাপন করা হচ্ছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে শেখ হাসিনার সরকার’।

দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন ও নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে দেশের কোনো নাগরিক যেন ন্যায়বিচার  থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ প্রণয়ন করেছি। অসহায়, দরিদ্র ও নিঃস্ব জনগণকে বিনা খরচে সরকারি আইনগত সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ প্রণয়ন করে। ঐ আইনের আওতায় ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।

আইনি সহায়তাপ্রাপ্তিতে এগিয়ে নারীরা : সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এক যুগে সংস্থাটি সর্বমোট ৬ লাখ ৭ হাজার ৮৮০ জনকে সরকারি আইনি সেবা প্রদান করেছে। যার মধ্যে ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৮ জনকে সরকারি খরচে মামলা দায়ের ও আইনজীবী নিয়োগসহ প্রাসঙ্গিক সব ব্যয় নির্বাহ করতে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই নারী। 

বিকল্প বিরোধ থেকে আদায় ৫৭ কোটি : সংস্থাটি জুলাই ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৪৭ হাজার ১২৮টি বিরোধ/ মোকদ্দমার মধ্যে ৪১ হাজারটি বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের ৫৭ কোটি ৯ লাখ টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ১ হাজার ৩৩৪টি মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মামলা নিষ্পত্তি প্রায় দেড় লাখ : গত এক যুগে পারিবারিক, দেওয়ানি, ফৌজদারিসহ সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৪টি লিগ্যাল এইডের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সময়ে সুপ্রিম কোর্টে ২ হাজার ৪৬টি মামলায় সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর ১৯ হাজার ৭৩৭ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৫ হাজার শ্রমিককে আইনি সহায়তা : ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রম আদালতে স্থাপিত দুটি শ্রমিক আইন সহায়তা সেলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৯৫৫ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান, ৩ হাজার ৩৭০টি মামলা দায়ের, ৩০০টি মামলা নিষ্পত্তি, ২৫৮ জনকে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং ৭১টি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ১৭৭টি বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

করোনাকালে আইনি সহায়তা : এক বছরের করোনাকালে ৫৪ হাজার ৩০৩ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং ১৩ হাজার ৩৫৪টি মামলা বিকল্প বিরোধ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত বিচার প্রার্থীগণকে ২৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮০ টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও অন্যভাবে ৯ হাজার ৬৪৫টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। এ সময়ে ৭ হাজার ৩৬০ জন কারাগারে আটক ব্যক্তিকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।