আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে সুদীর্ঘকাল ধরে। আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে বহেড়া গাছ দেখা যায়। বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ, উচ্চতায় ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের বাকল ধূসর ছাই রঙের। পাতা দেখতে অনেকটা কাঁঠাল পাতার মতো ভারী, প্রশস্ত ও উপবৃত্তাকার, লম্বায় প্রায় পাঁচ ইঞ্চি। বন্যপ্রাণীদের বিশেষ করে হরিণের প্রিয় খাবার। বহেড়ার ফুল হলুদ, ডিম্বাকৃতির এবং আকারে প্রায় এক ইঞ্চির মতো লম্বা। গ্রীষ্মকালে গাছে ফুল আসে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের ভেতর এর ফল পেকে যায়। শীতকালে বহেড়া ফল পরিপুষ্ট হয় এবং ফল পরিপক্ব হলে গাছ থেকে এমনিতেই মাটিতে পড়ে। ফল গোলাকার কিংবা ডিম্বাকৃতির। কাঁচা পাকা বহেড়া ফল সবুজ রঙের হয়ে থাকে। তবে ফল পেকে গেলে লাল বর্ণ ধারণ করে। ফলের ভিতরে বাদামি রঙের একটি সাদা অংশ বা শাঁস থাকে। বহেড়া ফল রৌদ্রে শুকালে বাদামি হয়। ফলের বাইরের আবরণ মসৃণ ও শক্ত এবং ভেতরে একটিমাত্র শক্ত বীজ থাকে।
বহেড়া ত্রিফলার একটি অংশ। আমলকি, হরিতকী ও বহেড়া—এই তিন ফলের মিশ্রণকে একত্রে ‘ত্রিফলা’ বলে। ওষুধ হিসেবে ত্রিফলা স্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক উপকার করে। বহেড়ার ফল ও ফলের শাঁস ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হয়। বাকল ব্যবহার হয় বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ও চিকিত্সায়। আমাশয়, কৃমি, পাইলস, সর্দি-কাশি, কুষ্ঠরোগ ও ডায়ারিয়াসহ পেটের নানা সমস্যায় ওষুধ হিসেবে খুবই উপকারী। আধপাকা ফল রেচক। বীজের তেল কেশবর্ধক।
সুশান্ত কুমার রায়
