রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রায় ২৭ সেকেন্ড স্থায়িত্ব হয় এ কম্পন। এ ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৩৯৭ কিলোমিটার দূরে আসামের গুয়াহাটির কাছে শোনিতপুরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪ দশমিক ১ ছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। ২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও মিয়ানমার, ভুটান ও চীনের বিভিন্ন স্থানেও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী সৈয়দ সামসুজ্জামান সানু জানান, তীব্র মাত্রার এ ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৩৯৭ কিলোমিটার উত্তরে রেকর্ড করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ভূকম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ঢাকায় ৩, সিলেটে ৪ ও উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, দিনাজপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৫ মাত্রার অনুভূত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত আর্থ অবজারভেটরি সেন্টার থেকে ৪০৬ কিলোমিটার উত্তরে এর উত্পত্তিস্থল রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, মণিপুর অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা রয়েছে, সেখানে বেশ ভূমিকম্প হয়। ১০-১৫ বছরের নিকট অতীতে আসামের এ অঞ্চলে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূম্পন অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫। এর আগে ৫ এপ্রিল রিখটার স্কেলে ৫.১ মাত্রার ভূকম্পন হয় উত্তর উত্তর-পশ্চিমে, যার উত্পত্তিস্থল ছিল ভুটানে। ঢাকা ও পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়।
