১৭ দেশে ছড়িয়েছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৭

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভারতের কোভিড ভ্যারিয়্যান্ট খুবই ভয়ংকর। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, এই ভ্যারিয়্যান্ট বিশ্বের ১৭টি দেশে ছড়িয়েছে। দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণে আবারও বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভারতকে সহায়তার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বি.১.৬১৭ ভ্যারিয়্যান্ট ভারতে পাওয়া গেছে। বিশ্বে এর ১ হাজার ২০০র বেশি সিকুয়েন্স পাওয়া গেছে। অন্তত ১৭টি দেশে এই সিকুয়েন্স পাওয়া গেছে। এই ভ্যারিয়্যান্টকে এখন উদ্বেগের বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

দৈনিক সংক্রমণে আবারও বিশ্বরেকর্ড

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৬০ জন আক্রান্ত এবং মারা গেছে ৩ হাজার ২৯৩ জন। এই প্রথম মৃতের সংখ্যা দৈনিক ৩ হাজার ছাড়াল। মোট মৃত্যু ২ লাখ এক হাজার ১৮৭ জন। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং মেক্সিকোর পরই ভারতের অবস্থান। 

মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ জন। আক্রান্ত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশে বাড়ছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় রোগী বেড়েছে প্রায় ৯৬ হাজার। ভারতে মোট সক্রিয় রোগী ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৯ জন। এই বিপুলসংখ্যক সক্রিয় রোগীকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। প্রতিদিন অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন শুধু অক্সিজেনের অভাবে। ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখের বেশি। সংক্রমণের হারও ছাড়িয়েছে ২০ শতাংশ। অর্থাত্ দেশে করোনা পরীক্ষা হওয়া পাঁজ জনের মধ্যে এক জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ২৪ ঘণ্টায় ভারতে টিকা নিয়েছেন ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ১৮১ জন। ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার পর গতকাল পর্যন্ত ভারতে মোট টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৪ কোটি ৭৮ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৭।

মৃতদেহ সত্কারেও লাইন

চিকিত্সা পেতে প্রথমে হাসপাতালের বাইরে লাইন দিতে হয়েছিল। মৃত্যুর সঙ্গে যখন লড়ছেন, তখন হাসপাতালের বাইরে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের স্বজনরা। মৃত্যুর পরেও সেই লাইন থেকে নিস্তার পেলেন না দিল্লিতে করোনার কবলে প্রাণ হারানোরা। চিতায় ওঠার জন্যও মাচায় শুয়ে থাকা অবস্থাতেই শ্মশানে লাইন দিতে হলো তাদের। মহামারিতে বিধ্বস্ত দিল্লিতে এবার এমনই দৃশ্যই সামনে এলো।

সোমবার বিকালে সুভাষনগর শ্মশানে কোভিডে মারা যাওয়া বাবার দেহ নিয়ে গিয়েছিলেন বছর চল্লিশের মনমীত সিং। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ির ভিড় কাটিয়ে শ্মশানে ঢুকতে যাবেন, তার আগেই রাস্তা আটকান এক কর্মী। জানিয়ে দেন, আর দেহ নেওয়া যাবে না। কারণ এত দেহ লাইনে রয়েছে যে, সোমবার সব কটি দেহ দাহ করার জায়গা এবং কাঠ নেই। আর সিএনজি চুল্লিতে একসঙ্গে দুটোর বেশি দেহ দাহ করা যায় না। তাতেও এক একটি দেহের পিছনে কমপক্ষে ৯০ মিনিট সময় লাগবে। এরই মধ্যে লাইনে ২৪টি দেহ রয়েছে। তাই অন্য কোথাও যেতে হবে তাকে।

প্রিন্স চার্লসের দুঃখ প্রকাশ

প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস এক বিবৃতিতে ভারতের কোভিড পরিস্থিতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি যে যেভাবে পারেন সবাইকে ভারতকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভারত ভ্রমণের কথা স্মরণ করেন এবং ভারতকে ভালোবাসেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।