মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৮

আজ মাহে রমজানের ষোড়শ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কোরআনুল করিমে ঘোষণা করেন, ‘আর মহান আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করো, নিশ্চয় আল্লাহপাক ক্ষমাকারী করুণাময়।’ (সুরা বাকারা, ১৯৯) করোনা ভাইরাস থেকে আমরা কী হারালাম আর কী পেলাম :এক. মসজিদে ভাই ভাই হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়সহ মাহে রমজানের অন্যতম খুশির নামাজ সালাতুত তারাবিহ স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী যদিও আমরা আদায় করছি, তথাপি আফসোস থেকে যায়, কেননা আমরা মুখে মাস্ক লাগিয়ে নামাজ আদায় করছি। (তবে উওম হলো সব নামাজ আদায়কালে মুখের মাস্ক খুলে আদায় করা, নামাজ আদায় শেষে পুনরায় মাস্ক ব্যবহার করা) দুই. করোনায় কেউ মারা গেলে খুব অল্পসংখ্যক মুসল্লি শরিক হয়ে জানাজার নামাজ আদায় করছি। তিন. করমর্দন বা মোছাফাহর চল এখন নেই। চার. বুক মোলাকাত বা মোয়ানাকাও নেই। আল্লাহর অশেষ রহমত থেকে সাময়িকভাবে মাহরুম সারা পৃথিবীর মানুষ। পক্ষান্তরে করোনাকালে আমরা পেলাম :এক. করোনা ভাইরাসের আক্রমণ। দুই. ক্ষুধার্ত বা দুর্ভিক্ষ। এই অবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে, (মহান আল্লাহপাক বলেন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য রিজিক প্রশস্ত করে দেন। সুরা আনকাবুত ৬২) তিন. লকডাউনকালে চাকরিহারাদের পারিবারিক কলহ, এটা একটা বড় সমস্যা। চার. অর্থনৈতিক মন্দা, সারা পৃথিবীর মানুষের হাতে টাকা নেই। পাঁচ. ভায়োলেন্স, অর্থাত্ সারা পৃথিবীতে অশান্তি বিরাজমান। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, খুন, গুম, ধর্ষণ বাড়ছে। এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিনের নিকট খালিছ নিয়তে তাওবাহ করা। নতুবা ইহকাল ও পরকালে ইমানহারা হয়ে যাব। সর্বাবস্থায় ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। বিচলিত হওয়া যাবে না। মহান আল্লাহ পৃথিবীর শুরু থেকে সব নবি রসুলের কাছ থেকে ইমানের পরীক্ষা নিয়েছেন। আমরা উম্মতে মোহাম্মদি (স.) আল্লাহর ঐ সব পরীক্ষা থেকে দূরে নয়। দুনিয়ার জীবন উপভোগ করার জন্য নয়, দুনিয়ার জীবন হলো পরকালের পরীক্ষার হল, পরীক্ষার হলে আমরা পরীক্ষা দিতেছি, ফলাফল প্রকাশ হবে কবরে এবং পরকালের দিবসে। মহান আল্লাহপাক আমাদের তার সব পরীক্ষায় মজবুত ইমানের সঙ্গে কামিয়াব হওয়ার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজানের মাগফিরাতের দিবসগুলোতে মহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি করে খালিছ নিয়তে তাওবাহ করার তাওফিক দান করুন।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ