চন্দ্র জয়ের অন্যতম নায়ক মাইকেল কলিন্স আর নেই

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:৪২

মানব ইতিহাসে প্রথম চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়া মাইকেল কলিন্স আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে গতকাল বুধবার ৯০ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ১৯৬৯ সালে প্রথম চন্দ্র অবতরণ মিশন অ্যাপোলো ১১-তে তিন সদস্যের ক্রুর একজন ছিলেন মাইকেল কলিন্স। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

মাইকেল কলিন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, তার শান্তিপূর্ণ মৃত্যু হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। তিনি জীবনের সব প্রতিকূলতা, একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন, শেষ সময়েও তা অটুট ছিল। এই দক্ষ পাইলট এবং মহাকাশচারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে নাসা। নাসার প্রধান মুখপাত্র ড. স্টিভ জুরসিযেক বলেন, একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি হারালো বিশ্ব। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে প্রথম মানুষ পদার্পণ করে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই। সেদিনে চাঁদের বুকে নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং ও তার অপর সঙ্গী বাজ অল্ড্রিন। সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় ছিলেন মাইকেল কলিন্স। যদিও তিনি চাঁদের মাটিতে হাঁটেননি। এ কারণে তাকে ‘বিস্মৃত নভোচারী’ বলা হয়। এই তিন নভোচারী আট দিন মহাকাশে কাটিয়ে ২৪ জুলাই পৃথিবীতে ফিরে আসেন। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট মারা যান নিল আর্মস্ট্রং। গতকাল চলে গেলেন তাদের সঙ্গী মাইকেল কলিন্স। তাদের হারিয়ে এখনো পৃথিবীতে আছেন বাজ অল্ড্রিন (৯১)।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নীল আর্মস্ট্রং, অল্ড্রিন ও মাইকেল কলিন্স এই তিনজনকে হোয়াইট হাউজে সম্মান জানিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি তিনজনকেই ‘প্রকৃত আমেরিকান নায়ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মাইকেল কলিন্স ইতালির রোমে ১৯৩০ সালের ৩১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে মেজর জেনারেল ছিলেন। কলিন্স যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন। এরপর বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে নাসা তাকে পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৬৩ সালে মহাকাশ অভিযানে যান।  তবে কলিন্স বলেছিলেন, নাসা মশকরা করেছে আমাকে চাঁদে পাঠিয়ে। কারণ, আমি মনে করি মঙ্গল আরো চমকপ্রদ জায়গা। মঙ্গল বিষয়ে আমি ছোটবেলায় অনেক কিছু পড়েছিলাম।