করোনা মহামারীর জন্য হাম এবং অন্যান্য রোগের নিয়মমাফিক টিকাকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে আছে লাখ লাখ শিশু এই টিকাকরণ প্রকল্প পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইউনিসেফ ও ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স ‘গ্যাভি’-র সঙ্গে এ ব্যাপারে একাত্মতা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
তারা জানিয়েছে, তাদের নতুন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির অধীনে এক দশকের কম সময়ে ৫০ মিলিয়ন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। মহামারির প্রথম দিকের মাসগুলোতে টিকাদান সেবা ব্যাহত হতে শুরু করলেও ২০২০ সালের জুনে প্রাক-কোভিড-১৯ পর্যায়ে বাংলাদেশ রুটিন টিকাদান পরিষেবা পুনরায় শুরু করে এবং নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস একটি বিবৃতিতে বলেন, “হাম, পীতজ্বর, ডিপথেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের একাধিক মহামারী আটকাতে হলে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, বিভিন্ন দেশে নিয়মমাফিক টিকাকরণ যেন নির্বিঘ্নে চলতে পারে।”
ডব্লিউএইচওর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২০ সালের পরিস্থিতির তুলনায় অগ্রগতি সত্ত্বেও, জরিপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর এক তৃতীয়াংশ (৩৭%) এখনও তাদের নিয়মিত টিকাদান পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছে।
নতুন তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ৫০টি দেশে জীবনরক্ষার ৬০টি টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যা প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে (যাদের বেশিরভাগই শিশু) হাম, হলুদ জ্বর ও পোলিওর মতো রোগের ঝুঁকিতে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫০টি দেশের অর্ধেকের বেশি আফ্রিকার মহাদেশের, যা গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান পরিষেবা প্রাপ্তিতে মানুষের দীর্ঘদিনের বৈষম্যকে তুলে ধরে।
ইত্তেফাক/এএইচপি
