সমকালীন আতঙ্ক

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ২০:০৭

 

হ্যান্ডগ্লাবস। পিপিই। জুতা। মাস্ক। হেডস্কার্ফ। সবকিছু ঠিক আছে কি না ভালোভাবে আবার চেক করে নেই, তবু যেন অতঙ্ক কাটছে না। বাসার নিচে অফিসের গাড়ি অপেক্ষা করছে। আমি চারতলার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছি, সিঁড়িতে শুধু আমার পায়ের আওয়াজ। নিচের তিনটা ফ্লোরের ছয়টা ইউনিটের একটা দরজা ছাড়া সবগুলোতে তালা ঝুলছে। এই তো কদিন আগে দ্বিতীয় তলার বি-ফ্লাটের ছোট্ট মেয়েটা ‘আংকেল আংকেল’ বলে দৌড়ে কোলে এসে উঠত। গাড়িতে ওঠার আগে বসার সিট ভালোভাবে স্যানেটাইজ করি। ড্রাইভার নরম সুরে প্রশ্ন করে, স্যার আজ কতোজন আক্রান্ত হয়েছে? আমি তার প্রশ্ন পাশ ফিরিয়ে জানতে চাই, সিস্টেমের খবর কী! দু-একটা প্রশ্ন করতেই বিশ মিনিটের চেনা পথ, অচেনা পথের মতো তিন মিনিটে পৌঁছে যাই অফিসে। সারা রাস্তা জুড়ে নীরবতা চুঁইয়ে পড়ে। অফিসে ঢুকে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত পরিষ্কার করে, কন্ট্রোল রুমের সামনের চেয়ারটাতে বসে পড়ি। আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই, অফিসের রোস্টার অনুযায়ী কয়েকজন দায়িত্ব পালন করছে। সবাই যেন অতঙ্কে বুঁদ হয়ে আছে। বিদ্যুত্ অফিসগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। বিদ্যুতের কাজে নিয়োজিত বা কাছের মানুষগুলো ছাড়া আমাদের কষ্ট খুব কম মানুষই ঠাওর করতে পারে। সহকর্মীদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, আবার অনেকের হাত অথবা পা হারিয়ে বাকি জীবন বয়ে চলা, এগুলো খুব কাছে থেকে দেখা।

একটা সময় করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করল। বিশেষ কিছু নিয়ম করে লকডাউন তুলে দেওয়া হলো। আস্তে আস্তে ভয় কাটিয়ে মানুষ কাজে যোগদান করতে শুরু করে। কিছু পাবলিক ট্রান্সপোর্ট খুলে দেওয়া হলো, ঢাকা শহর ধীরে ধীরে ভরতে শুরু করল। ঢাকার ভেতরের বাস সার্ভিসগুলোতে একটা সিট অন্তর অন্তর মানুষ বসে, দোকানগুলো সন্ধ্যার আগেই বন্ধ হয়। এভাবে একসময় সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল, স্কুল-কলেজ ছাড়া সবকিছু আবার আগের মতো চলতে শুরু করল।

বাইরে বের হতে হলে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিছুদিন পর খানিকটা রূপ বদলিয়ে আবার করোনার দ্বিতীয় ডেউ, আবার আতঙ্ক। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশ্বের অনেক দেশে নতুন করে আবার মৃত্যুর মিছিল শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক দেশ লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের দেশেও দ্বিতীয় দফায় লকউাউন দেওয়া হলো। পার্শ্ববর্তী দেশে মৃত্যুর মিছিল, লাশের সংখ্যা তরতর করে বেড়ে চলছে। আবার আতঙ্ক...

নূর মোহাম্মাদ আরিফ