স্পোর্টস রিপোর্টার
দুই টেস্টেই ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলল শ্রীলঙ্কা। নিষ্প্রাণ উইকেটে বোলাররা যেন খনিশ্রমিক। প্রচণ্ড গরমে কর্মক্লান্ত বোলিংয়েও দেখা মিলছে না উইকেটের। বোলারদের জন্য কিছুই নেই। তাই ব্যাটসম্যানদের ভুলের অপেক্ষাই বড় সম্বল। প্রথম টেস্টের মতো গতকালও উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু বরাবরের মতোই ফিল্ডারদের সমর্থন পাননি তারা।
গতকাল যেমন ইনিংসের ২০তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন দিমুথ করুনারত্নে। ২৮ রানে থাকা লঙ্কান অধিনায়কের ক্যাচ ফেলেছেন শান্ত। যার চড়া মাশুল গুনেছে বাংলাদেশ। শান্তর হাতে জীবন পেয়ে ১২তম সেঞ্চুরি করেছেন করুণারত্নে। পরে আরো ৯০ রান যোগ করে আউট হয়েছেন তিনি।
প্রথম দিন শেষে ক্যাচ মিসের আফসোস পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে। ব্যাটিং কোচ জন লুইস বলেছেন, এমন উইকেটে সুযোগ তৈরি করা কঠিন। এসব সুযোগ কাজে লাগানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেটে প্রথম টেস্টের প্রতিচ্ছবিই দেখছেন তিনি। তার ধারণা, শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়বে। আরো লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ে কাটানোর মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।
ফিল্ডিংয়ে বারবারই ক্যাচ মিস সম্পর্কে জানতে চাইলে দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে জন লুইস বলেছেন, ‘দুই টেস্টেই ক্যাচের সুযোগ তৈরি করা কঠিন। এ ধরনের কন্ডিশনে বোলারদের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এক-দুটি মিস করেছি। এটা অবশ্যই আদর্শ নয়। ছেলেরা ফিল্ডিংয়ে অনেক কাজ করছে। কিন্তু এটা চেষ্টা বা মনোযোগ, অনুশীলনের ঘাটতি নয়। মানুষ হিসেবে এমন ভুল হতেই পারে।’ তাসকিনের বলে থিরিমান্নেও গালিতে ক্যাচ তুলেছিলেন। কিন্তু সেটি মিরাজের নাগালের বাইরে ছিল। দুই টেস্টের উইকেটে খুব ভিন্নতা দেখছেন না বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটা প্রথম টেস্টের উইকেটের প্রতিচ্ছবিই বটে। তবে শ্রীলঙ্কা আশা করছে উইকেট ভাঙবে। চতুর্থ, পঞ্চম দিনে একই রকম থাকবে না।’ লুইসের মতে, স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে বড় স্কোরের চাপে ফেলবে বাংলাদেশকে। তিনি বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে শ্রীলঙ্কা বড় স্কোর পাবে। আমাদের আরো ২-১টা সেশন ফিল্ডিংয়ে থাকতে হবে। এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। উইকেট এখনো ভালো দেখছি। আমাদেরও কয়েক জন ভালো ব্যাটসম্যান আছে যারা প্রথম টেস্টে ভালো করেছিল।’
স্কোর কার্ড (প্রথম দিন শেষে)
টস: শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস রান বল চার ছয়
দিমুথ করুণারত্নে ক লিটন ব শরীফুল ১১৮ ১৯০ ১৫ ০
লাহিরু থিরিমান্নে অপরাজিত ১৩১ ২৫৩ ১৪ ০
ওশাদা ফার্নান্দো অপরাজিত ৪০ ৯৮ ৪ ০
অতিরিক্ত (নো বো ১, ও ১) ২
মোট (৯০ ওভার, ১ উইকেট) ২৯১
উইকেট পতন : ১/২০৯ (করুনারত্নে)
বাংলাদেশ বোলিং :
আবু জায়েদ : ১৬-৩-৪৭-০, তাসকিন আহমেদ : ১৭-৩-৬৯-০, মেহেদী হাসান মিরাজ : ২২-৪-৬৭-০, শরীফুল ইসলাম : ১৬-৩-৫২-১, তাইজুল ইসলাম : ১৯-২-৫৬-০।
