দাবদাহ চলছে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:২৩

সাত বছরের রেকর্ড ভেঙে দাবদাহ চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কি না সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুমি বায়ুর আনুকূল্যে গ্রীষ্মকালে দাবদাহের পাশাপাশি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এবার মধ্য বৈশাখ মাসেও বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে দাবদাহ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। গত ২০ বছরে ঢাকাসহ প্রায় সব শহরের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। অব্যাহত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে গাছপালা, পাহাড়, বনভূমি ধ্বংস এবং মানবসৃষ্ট আরো নানা অত্যাচারে প্রকৃতি তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে বিরূপ আচরণ করায় সারা দেশে বেড়েছে দাবদাহের তীব্রতা।

আবু ফারুক

সদর, বান্দরবান

বনাঞ্চল ধ্বংস, পাহাড় কাটা এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণেই জলবায়ু ও সামগ্রিক প্রকৃতি আজ বিক্ষুব্ধ। তীব্র দাবদাহ সেই বিক্ষুব্ধতারই প্রতিফলন। কেবল শহরাঞ্চলই নয়, মাঝারি থেকে প্রচণ্ড দাবদাহের কবল থেকে মুক্তি পাচ্ছে না প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলও। মাত্রাতিরিক্ত গরমে সব বয়সের মানুষের বিশেষত খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি প্রকট হয়েছে। বেড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনের হার কমাতে সচেষ্ট না হলে এমন দাবদাহ নিয়মিত ঘটনায় রূপ নেবে।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম

উন্নত এবং ধনী দেশগুলো উন্নয়নের নামে যে পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করছে তার বলি হতে হচ্ছে বাংলাদেশসহ কম কার্বন নিঃসরণের দেশসমূহকে। বিপুল পরিমাণে কার্বন নিঃসরণের ফলে প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে। প্রকৃতি স্বাভাবিক আচরণের বদলে বিরূপ আচরণ করছে। পরিবর্তন হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ুর এবং দিন দিন কমছে গাছপালা ও বনভূমি। আর জলবায়ুর এমন পরিবর্তনের কারণেই বাংলাদেশে বেড়ে গেছে তাপমাত্রা। শুরু হয়েছে প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরার মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, অসময়ে বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনার কারণে সারা বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ কিছুটা কম হলেও জলবায়ুর ওপরে তার প্রভাব তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সারা বিশ্ব যদি জলবায়ুর এমন পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ না নেয় তাহলে উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মতো অনেক দেশকে সামনের দিনে আরো কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।

সোহেলী শারমিন ঊর্মি

শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

বিগত কয়েক দশক থেকে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ পৃথিবী পৃষ্ঠে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি। বিশ্বের শিল্পোন্নত জাতিগোষ্ঠী কর্তৃক অধিক পরিমাণে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এর থেকে সৃষ্ট কার্বন ভূমণ্ডলের উষ্ণতাকে করছে ঊর্ধ্বমুখী, বিশ্বব্যাপী জলবায়ুকে করছে নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের জলসীমা বৃদ্ধি ও বহুমাত্রিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে নিপতিত হয়ে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ আজ সাংঘাতিক বিপদাপন্ন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোগান্তি চরমে পৌঁছে গেছে। ফলে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা, ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজনের লক্ষ্যে ধনী দেশসমূহের প্রতিশ্রুত সাহায্যের অর্থ ছাড় ও বৈশ্বিক জলবায়ু রক্ষায় শক্তিশালী জলবায়ু তহবিল গঠন অত্যন্ত জরুরি। সর্বোপরি, দায়বদ্ধতা ও সহযোগিতার সম্মিলনে সব জাতি-গোষ্ঠীকেবৈশ্বিক জলবায়ু রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে।

ওয়ারেছ আলী খান

সদর, নরসিংদী

করোনা আতঙ্কের পাশাপাশি প্রচণ্ড দাবদাহ দেশের মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। বৃষ্টিপাতহীন রুক্ষতায় রেকর্ড পরিমাণ গরম জনজীবনকে কোণঠাসা করে রেখেছে। অবাধে গাছপালা কেটে ফেলা, পাহাড় ও বন উজাড়, অপরিকল্পিত শিল্পায়নসহ বিভিন্ন কারণে প্রকৃতির উপর চাপ বাড়ছে।

আবুল কাশেম

বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম

কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে অসহ্য পরিস্থিতিতে পড়েছে মানুষজন। সারাদেশে একাধিক অঞ্চলে দেখা দিয়েছে মাঝারি থেকে তীব্র দাবদাহ। নিঃসন্দেহে এটি প্রকৃতির বিরূপ আচরণ।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

অসহনীয় দাবদাহের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় দাবদাহ অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে দাবদাহ প্রাকৃতিক ব্যাপার হলেও আমাদের কতিপয় অদূরদর্শী কর্মকাণ্ডে তা মাত্রা ছাড়াচ্ছে।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান সদর, বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা

বছরে দুই মাস তাপমাত্রা একটু কম থাকে, যার মধ্যে এক মাসকে আমরা এখন শীতকাল বলে ধরে নিই। বছরের মাঝখানে কারণে-অকারণে শুরু হয় অতিবৃষ্টি, যার ফলাফল হলো বন্যা। এসব ঘটনাকে গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখছেন। যার ফলে দেশে খাদ্য উত্পাদন কমছে, বাড়ছে নিত্য নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অসুখ-বিসুখ।  জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দাবদাহ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, যা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ওবায়দুল মুন্সী

ঢাকা

তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অবশ্যই দায়ী। বৈশাখে বৃষ্টি না থাকায় তাপমাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে সবুজ বনায়নের কোন বিকল্প নেই; এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি প্রত্যেকটি সচেতন নাগরিককে সোচ্চার হতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

চারদিকে যেভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে তাতে অনেকেই মনে করছেন এর প্রভাবেই জলবায়ুর এতো পরিবর্তন ঘটছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট করতে গিয়ে মানুষজন প্রচুর গাছ কেটে ফেলছে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

গুলশান, ঢাকা

দেশ জুড়ে তীব্র তাপ প্রবাহে অস্থির জনজীবন। এবার বৈশাখের শুরুতে তেমন বৃষ্টি নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন হয়েছে।

অ্যাড. রবিউল হোসেন রবি

পুরানা পল্টন, ঢাকা

প্রচণ্ড দাবদাহে বায়ুমণ্ডলে নেই বিশুদ্ধ বাতাস। প্রকৃতি আমাদের সঙ্গে করছে রুক্ষ আচরণ। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বেশি বেশি বৃক্ষ রোপণ করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ছে এবং তাপমাত্রার এই ক্রমাগত বৃদ্ধি মানবজাতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, খরা, বজ্রপাত, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনেরই ফল। একটি দেশের মোট আয়তনের ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা, কিন্তু আমাদের দেশে রয়েছে ১৭ শতাংশের নিচে। অপরিকল্পিতভাবে নগর, শিল্পকারখানা, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণের জন্যে গণহারে বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই দেশের সর্বত্র বৃক্ষ রোপণ করার মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

চলমান দাবদাহ শুধু যে সাত বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে তা নয়, বিগত ৪৯ বছরেরও রেকর্ড ভঙ্গ করে চলেছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশকে রক্ষা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী হিফজু

হাউজিং স্টেট, রাজশাহী

জলবায়ুর পরিবর্তনই প্রচণ্ড দাবদাহের কারণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

বৈশ্বিক উষ্ণতায় শুধু আমাদের দেশই নয়, সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন। যত্রতত্র ইটের ভাটা চালু থাকার দরুণ পরিবেশ দূষণ এবং বায়ুদূষণ হচ্ছে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং করা উচিত।

মাখরাজ খান

সাঠুরিয়া, মানিকগঞ্জ

গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এতে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে শ্রমজীবী মানুষ।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

চলতি সপ্তাহে দেশ জুড়ে বইছে প্রচণ্ড দাবদাহ। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীতে এখন পানি নেই। ফলে দাবদাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবার আগে নদীকে বাঁচাতে হবে, নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব।

বজলুল করিম

ধানমন্ডি, ঢাকা

বাংলাদেশের আবহাওয়ার ইতিহাসে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয় ২৫ এপ্রিল এবং এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজধানী ঢাকায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আইইএর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়, চলতি বছর বিশ্ব জুড়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। অথচ গত বছর করোনা মহামারির কারণে দেশে দেশে লকডাউন ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ কমে গিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দাবদাহ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, যা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী দুর্যোগে ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

দাবদাহ জলবায়ু পরিবর্তনের অংশ। অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিকের ব্যবহার, পানি ও বায়ুদূষণ, বৃক্ষনিধন, বনাঞ্চলে লোকালয় স্থাপন ইত্যাদি পরিবেশ বিরোধী কাজ করে আমরা প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছি। তাই আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ছায়ানিবিড়, মুক্ত অক্সিজেন পেতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে হবে।

মো. সাইমুন

দোহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রকৃতি তার স্বাভাবিক অবস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এখন আর সময় মতো প্রাকৃতির ঘটনা প্রবাহ সংঘটিত হয় না। বিশ্বজলবায়ু পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ। এর প্রভাব আমাদের দেশে এবং এর আশপাশের অঞ্চলেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখন সময়মতো যেমন বৃষ্টিপাত হয় না তেমনি আমাদের দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হঠাত্ করেই সংঘটিত হয়। অতিরিক্ত বৃক্ষ নিধনের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সামগ্রিকভাবে বিশ্ব আজ উষ্ণায়নের কবলে পতিত।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর