হেফাজতের দুই কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রেফতার ৭

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৭

চট্টগ্রাম ও নেত্রকোনায় হেফাজতে ইসলামের দুই কেন্দ্রীয় নেতাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরো চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে হেফাজতের তাণ্ডবের প্রতিবাদে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দোষী হেফাজত নেতাদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হেফাজতে ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহারকে গত বুধবার গভীর রাতে নগরীর লালখান বাজার এলাকার নিজ মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল জানান, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মদত দেওয়ার অভিযোগে মুফতি হারুন ইজহারকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হাটহাজারী থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ঐ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, মুফতি হারুন ইজহার বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ছেলে এবং চট্টগ্রামের লালখান বাজারের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক। ২০০৯ সালের নভেম্বরে ঐ মাদ্রাসার পেছনের পাহাড় থেকে লস্কর-ই-তৈয়বার সন্দেহভাজন দুই বিদেশি জঙ্গিসহ গ্রেফতার হন হারুন। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ২০১৩ সালে ঐ মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে বড় ধরনের বিস্ফোরণে দুই জনের মৃত্যু হয়। ঐ ঘটনার পর পুলিশ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খুলশী থানায় বিস্ফোরক ও অ্যাসিড আইনে দায়ের করা দুই মামলায় মুফতি ইজহার ও তার ছেলে হারুন ইজহারকে আসামি করা হয়।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং শহরের মালনী জামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ গত বুধবার বিকালে উপজেলার বলাইশিমুল গ্রামের একটি মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় দায়েরকৃত এক মামলায় মাওলানা কাইয়ূমকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানায়। এছাড়া আব্দুর রহিম নামের আর এক হেফাজত কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়। গতকালই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।