বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা সরকারের অপরিণামদর্শী নীতিরই ফল। একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার এক ঝুড়িতে সব ডিম রেখেছিল। ভ্যাকসিন কূটনীতিতেও সরকারের পা ফসকে ছিল। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মেনন বলেন, করোনায় ভারতে টিকার তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিজ দেশের প্রয়োজন না মিটিয়ে অন্য কাউকে ভ্যাকসিন দেবে না, সেটাই স্বাভাবিক। সরকার ভালোভাবে যাত্রা শুরু করলেও এখন মাঝপথে তরি ডোবার উপক্রম হয়েছে। সরকার এখন চারিদিকে পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, অক্সিজেনের ক্ষেত্রেও মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান ও ভারতের ওপর নির্ভরতা একই সংকট তৈরি করছে। কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও দুর্নীতির কারণে গত এক বছরে আইসিইউ, সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়নি। তিনি বলেন, গত বছরের অঘোষিত লকডাইনে ‘দিন আনি দিন খাই’ মানুষ কিছুটা সহায়তা পেয়েছিল। এবার সেটা না পাওয়ার কারণে গরিব মানুষ খুবই কষ্টে আছে। ইতিমধ্যে প্রথম লকডাউনেই আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এবার সেটা কোন পর্যায়ে যাবে, তা এখনই বলা যাবে না।
মেনন বলেন, সরকার ও সরকারি দল ঐক্যবদ্ধভাবে সংক্রমণ মোকাবিলার কথা বললেও সেটি কথার কথা। তারা বরং হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার সূত্র খুঁজতে বেশি আগ্রহী। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে কেবল আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে করোনা মোকাবিলার নীতি দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে তাতে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত্ বিপদাপন্ন।
দলের ঢাকা মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়, যুবনেতা মো. তৌহিদ, গার্মেন্টস শ্রমিকনেতা রফিকুল ইসলাম সুজন, গৃহশ্রমিকনেতা মমতাজ বেগম প্রমুখ।
ফজলে হোসেন বাদশা করোনামুক্ত
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি করোনামুক্ত হয়েছেন। গতকাল তার চিকিত্সায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড এটি নিশ্চিত করেছেন। ১৪ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হয়।
