হেফাজতে ইসলামের দেশীয় অর্থদাতাদের খোঁজে নেমেছেন গোয়েন্দারা। এখন পর্যন্ত যে ৩১৩ জন অর্থদাতা চিহ্নিত হয়েছেন তার মধ্যে দেশি কত জন, তারা কে কোথায় আছেন— এসবের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এক জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, কয়েক জন দেশীয় অর্থদাতার নাম তারা পেয়েছেন। সেগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই তালিকায় অন্তত দুই জন রাজনৈতিক দলের ওপরের দিকের নেতা রয়েছেন।
এদিকে, বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষের মামলায় হেফাজতে ইসলামের দুই নেতা মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী এবং মুফতি হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাশেমীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম দুই হেফাজত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
হাবিবী হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং মাহমুদ কাশেমী সংগঠনটির সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত হেফাজতের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার দুই ভাইয়ের অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে। এই অর্থ তাদের কে দিয়েছে, সেই বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। খুব শিগগিরই দেশীয় অর্থদাতাদের কয়েক জনকে ধরা হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত মাসে হেফাজতের বিক্ষোভ-হরতালে নাশকতার ঘটনার মামলায় পুলিশ সংগঠনটির ডজনখানেক কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার ওয়াসা মোড় থেকে কাশেমীকে এবং ডেমরা থেকে হাবিবীকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পল্টন থানার মামলায় তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। তবে শুনানি শেষে বিচারক তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিকে পল্টন থানার আরেক মামলায় হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে ফের তিন দিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। গত ২২ এপ্রিল খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে মানিকগঞ্জে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ।
২৬ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সম্প্রতি নাশকতার অভিযোগে ঢাকাসহ সারা দেশে বেশকিছু মামলাও হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতের শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় মোট ৫৩টি মামলা দায়ের হয়। হেফাজতের বিরুদ্ধে মোট ৬৪টি মামলা তদন্তাধীন আছে। এ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। এরই মধ্যে রবিবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
