মর্মান্তিক!

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২১, ০০:৩৯

রাজধানীর ভাটারায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থাতেই ঐ নারীর আট মাস বয়সি মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সাঈদনগর এ ব্লকের কুমিল্লাপাড়া ২৫/৫৯ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম তাসমীন ফারহানা মীম (১৯)। এদিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি হাসপাতালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উম্মুল ফিদা (৩০) নামের আরো এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের জন্য তাসমীনের লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ও উম্মুল ফিদার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) পাঠিয়েছে ভাটারা থানাপুলিশ। ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিউদ্দিন মিয়া জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সাঈদনগরের দ্বিতীয় তলার ঐ বাসার দরজা ভেঙে তাসমীনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ছিল মৃতদেহটি। তাসমীনের পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তার বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায়। স্বামী আব্দুল্লাহ আল মাসুদের সঙ্গে ঐ বাসাতে ভাড়া থাকতেন। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। গত তিন দিন আগে মাসুদ কোম্পানির কাজে বরিশালে যান। এর পর থেকে স্বামী আর তাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। গতকাল দুপুরে তিনি বরিশাল থেকে ঢাকায় ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দেন তিনি। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা ভেঙে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি কিছুটা ফুলে গেছে। গলায় ফাঁস দেওয়ার কারণে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছে বলে জানান ঐ এসআই।

ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলী সৈকত জানান, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে একটি হাসপাতাল থেকে উম্মুল ফিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ৫০৬ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তার বাড়ি সিলেট সদরে। এক বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে তালাক হয়ে যায় তার। বিভিন্ন কারণে হতাশায় ভুগছিলেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।