ভারতে রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ও আইপিএল খেলা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে সমালোচনা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২১, ০০:৩৯

ভারত জুড়ে প্রতিদিন যখন সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আইপিএল খেলাও চলছে। সারা বিশ্বের কাছে প্রবল সমালোচিত হচ্ছে কোটি টাকার এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ভারত সরকারকে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতে অবস্থান করা তার নাগরিকদের দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও আলজাজিরার

দিল্লিতে প্রতি মিনিটে করোনায় একজনের মৃত্যু হচ্ছে। গতকাল ভারতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৫৭ জন আক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৬৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে টিকা কার্যক্রমও পিছিয়ে নিবন্ধন সমস্যার কারণে। হাসপাতালে অক্সিজেন এবং শয্যার ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে ভারতে চিকিত্সাসামগ্রী পাঠাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, যে কোনো দেশ এই সংকটের মধ্যে পড়তে পারে। আফ্রিকান ইউনিয়নও সতর্ক করে বলেছে, ভারতের পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটা সতর্কবার্তা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪০টি দেশ ভারতকে অক্সিজেন সরবরাহ করছে। এর মধ্যেও গতকাল পশ্চিমবঙ্গে অষ্টম ও শেষ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার তার দেশের নাগরিকদের ভারত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়াল লীগ (আইপিএল) খেলা নিয়ে সাবেক ফুটবলার এবং ধারাভাষ্যকার গ্যারি লিনেকার টুইট করে লেখেন, ‘একজন ক্রিকেট ভক্তের মতোই আমি আইপিএল দেখতে ভালবাসি। করোনার এই সময় প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া আমার কাছে বড় ভুল বলে মনে হচ্ছে। রান হওয়ার থেকে বেশি তাড়াতাড়ি মানুষ মারা যাচ্ছে’। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মর্গ্যান টুইট করে লেখেন, ‘করোনার এই পরিস্থিতিতে আইপিএল চলতে পারে না। এই মহামারির সময় ক্রিকেট অযৌক্তিক’। একটি সংবাদ পত্রের দাবি অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের বোর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ক্রিস লিন টিকা নিতে চাওয়ায় সেই নিয়েও ঐ সংবাদপত্রে লেখা হয়, ‘ভারতে থাকার ভয়ের কারণে সুস্থ, তরুণ ক্রিকেটাররাও টিকা নিতে চাইছে’। একাধিক ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন আইপিএল থেকে। অ্যান্ড্রু টাই বলে, ‘সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার আগে দেশে ফিরতে চাই। ভারতের দিক থেকে দেখলে বুঝতেই পারছি না যখন হাসপাতালে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না, তখন আইপিএলের জন্য এত টাকা খরচ করছে কী করে দলগুলো’। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটারদের জন্য কোনো বিশেষ আয়োজন করবে না সরকার। কারণ তারা দেশের জন্য খেলতে যাননি।