আরিফুল ইসলাম তপু, বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা
বাগাতিপাড়ায় বড়াল নদ নাব্য সংকটে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। একইসঙ্গে চলছে দখল ও দূষণ। নাব্য হারিয়ে এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। দেখা গেছে, নদের বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। উজানে বাঁধ দিয়ে ইরিগেশনের জন্য সেচ দেওয়া, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং নদের বুকে অতিরিক্ত ব্রিজ নির্মাণের ফলে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদের তলদেশে পলি জমে জমে উঁচু হয়েছে, দুই পাড় চেপে গেছে এবং নদের পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া পদ্মায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক না থাকা, চারঘাট ও আটঘরিয়া স্লুইসগেট দুইটির জন্য পদ্মার শাখা বড়াল নদের এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করে নদে বিশেষজ্ঞরা।
বাগাতিপাড়া উপজেলার বুক চিরে প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারণে বড়াল নদের দুই পাড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ অসংখ্য জেলেপল্লী জীবিকার প্রয়োজনে গড়ে উঠেছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮১-৮২ অর্থ বছরে নদের তীরবর্তী উপজেলাগুলোকে বন্যামুক্ত করার জন্য উত্সমুখ চারঘাট ও আটঘরিয়ায় স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। বর্ষায় নদে কিছু পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে মরা নদে পরিণত হয়। এ সুযোগে এ সময়ে এলাকার কৃষকরা নদের বুক জুড়ে ফসলের আবাদ করে। পরিণত হয় গবাদি পশুর চারণ ক্ষেত্রে। এদিকে, ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের এক নির্দেশনায় সিএস রেকর্ড নকশামূলে বড়াল নদ উদ্ধারের কথা বলা হয়। আইডাব্লিউএম ও নদ রক্ষা কমিশনের সুপারিশ মতে, চারঘাট থেকে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত ৫৬টি স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আটঘরিয়া থেকে বনপাড়া ১৮ কিলোমিটার বেদখল নদের উদ্ধার করতে হবে। বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘বড়াল রক্ষা করতে হলে এর দখল ও দূষণ বন্ধসহ চারঘাট ও আটঘরিয়া স্লুইচগেট দুইটি ধ্বংস করা। পাশাপাশি বড়াল পাড়ের আটটি পৌরসভার বর্জ্য এ নদে ফেলা বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন স্থাপনা বড়াল নদের মধ্যে রয়েছে যা মানা যায় না।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, ‘বড়াল নদের অববাহিকায় পানি সম্পদ পুনরুদ্ধার নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ১৫০ কিলোমিটার নদ খনন করা হবে। পাশাপাশি চারঘাট স্লুইসগেট অববাহিকায় আরো একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে। যাতে পদ্মা নদ থেকে পানিপ্রবাহ বাড়ানো যায়।’
