চারঘাটে পুকুর খননের হিড়িক!

আপডেট : ০২ মে ২০২১, ২২:৩১

কমছে ফসলি জমি

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা

চারঘাটে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। করোনাকালীন লকডাউনের সুযোগে উপজেলার প্রভাবশালী জমির মালিকরা দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমিতে নির্বিঘ্নে পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন কমছে ধানীসহ অন্যান্য কৃষি ফসলি জমি। জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলার সভায় বার বার পুকুর খনন বন্ধে আলোচনা হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম। 

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বড় বড় পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ সকল পুকুরের আশপাশে রয়েছে আমের বাগান, ধানী জমি, সংযোগ সড়ক এবং বিলের পানি এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার সংযোগ সাঁকো। মাটি আনা নেওয়ার কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরগুলো চলাচলের ফলে বিস্তীর্ণ ফসলের জমিও নষ্ট হচ্ছে। এতে করে এ সকল জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন, স্থানীয় কৃষক পরানপুর বামনিদহ গ্রামের মাজেল। তিনি আরো বলেন, অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে বামনিদহ বিলের মধ্য দিয়ে রাস্তায় দুটি সাঁকোর উভয় মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করায় এ বিলে অধিকাংশ জমিতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফসলের জমি কমায় ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি শ্রমিকরা গ্রামে কাজ হারাচ্ছেন। ফলে কাজের জন্য অধিকাংশ কৃষি শ্রমিককে শহরে যেতে হচ্ছে।

মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত আফজাল পাঁচ বিঘার জমিতে পুকুর খনন করে উত্তোলিত মাটি আশপাশের বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন। প্রতি ট্রাক মাটি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ মাটি আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ১৫-২০টি ট্রাক্টর যার অধিকাংশই অনুমোদনহীন। পাশাপাশি গত এক মাসের ব্যবধানে মাটি বহন ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদী, চরাঞ্চল, পতিত ও আবাদি জমি থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ভারি যানবাহন দিয়ে ইটভাটার কাঁচামাল আনা নেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু এর কোনোটিই মানছে না স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা সামিরা বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রানী কৈরি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। তবে কর্মস্থলে ফিরে তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।