গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ
বিশেষ প্রতিনিধি
‘স্বাস্থ্যবিধি মানব গাড়ি-ঘোড়া চালাব’ স্লোগানে রাজধানীসহ সারা দেশে গতকাল রবিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন গণপরিবহন শ্রমিকেরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত সারা দেশে ২৪৯টি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এই কর্মসূচি পালন করে। রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিবহনশ্রমিকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করা, সড়ক পরিবহনশ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া এবং সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহনশ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় ওএমএসের চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে পণ্য পরিবহন খাতে আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজি মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ঢাকা জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্বাস আলী বলেন, এই লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রায় ৫০ হাজার পরিবহনশ্রমিকের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পরিবহনশ্রমিকেরা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাননি। এতগুলো মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও বাসের অর্ধেক আসন ফাকা রেখে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক। যে পরিবহন স্টাফ স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, তাদের যে কোনো জরিমানা ও শাস্তি দিলে তা মাথা পেতে নেওয়া হবে। আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়া হোক। দাবি না মানলে আগামী ৪ এপ্রিল আমরা ঢাকা জেলা পরিষদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।
মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে গণপরিবহনশ্রমিকেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালুর দাবি জানান। এতে ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (মহাখালী)-এর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক বলেন, ‘লকডাউন বা বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হলেও একমাত্র পরিবহন ছাড়া সবকিছুই চলছে। এদিকে পরিবহনশ্রমিকেরা কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে। আমাদের এই সুযোগ করে দেন, আমরা খেয়ে-পরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই।
গণপরিবহন চালুর দাবিতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে জড়ো হতে থাকেন পরিবহনশ্রমিকেরা। পরে তারা ঢাকা মহানগর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটির তিন শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজি মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান গতকাল যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, পণ্য পরিবহন শিল্প বাংলাদেশের একটি সম্প্রসারমান ও অপরিহার্য শিল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই শিল্পের প্রত্যেক মালিক ও শ্রমিক দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এই বিকাশমান ও সম্প্রসারণশীল শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের আমদানি ও রপ্তানির ওপরই পণ্য পরিবহন শিল্পের গতি-প্রকৃতি অনেকটা নির্ভরশীল। করোনায় আমদানি ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় এই শিল্পের মালিক ও শ্রমিকেরা বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গাড়ির মালিক ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি থেকে নেওয়া গাড়ির কিস্তি দিতে পারেননি, এ কারণে কিস্তির গাড়িগুলো হয়তো ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি জব্দ করে নিয়ে গেছে অথবা ট্রিপের অভাবে অলসভাবে পড়ে আছে। এই অবস্থায় নেতৃবৃন্দ সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পণ্য পরিবহনশিল্পের মালিক ও শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা থেকে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
