পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের দুইটি গ্রুপের মধ্যে শুক্রবার রাতে শহরতলীর শিকারপুরে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক প্রবাসীর বাড়ি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের জনৈক নেতার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। এর আগে প্রতিপক্ষের এক কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করায় তাকে খুলনার হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সদর থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। জানা গেছে, শহরের দুইটি ইজিবাইক স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সহিংসতার সূত্রপাত।
পিরোজপুরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহান অভিযোগ করেন সন্ত্রাসীরা তার ও প্রতিবেশী প্রবাসী রাজু ফকিরের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। হামলায় নারী শিশুসহ পাঁচ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে পিরোজপুর শহরের উত্তর শিকারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। রাজু ফকিরের ভাই রনি ফকির জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাত্ করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার ভাবিকে মারধর করে এবং ভাবির গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জিহানের পিতা শাহজাহান মিয়া ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
এদিকে খুলনা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সরকার দলীয় কর্মী মেরাজ শেখ (৩০) জানান, শুক্রবার রাত ৮টা দিকে শহরের সিও অফিস এলাকার ব্রিজের উত্তর পাশে এক দল সন্ত্রাসী তার ওপরে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের কোপ ও এলোপাতারি প্রহারে তিনি মাথা, বাম হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত পান। হাসপাতালে তার মাথায় ছয়টি ও বাম হাতে আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মেরাজ শেখের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিহান ও প্রবাসী রাজু শেখের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, এরই মধ্যে মিরাজ শেখের ওপর হামলার ঘটনায় তার ছোট ভাই রিয়াজ থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় ২১ জনকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে দুইটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। সদর থানার ওসি নূরুল ইসলাম বাদল জানান, কোনো মামলার আসামি গ্রেফতার হয়নি।
