মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ০২ মে ২০২১, ২৩:২৭

আজ ১৪৪২ হিজরির ২০তম রমজান অতিবাহিত হচ্ছে। মাশাআল্লাহ, রমজানের ৩০টি দিবস আমরা রোজা পালন করে থাকি। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমরা কিছু খাই না, পান করি না। কিন্তু কেন খাই না, কেন পান করি না? কে আমাদের হাত ধরে রাখে, পানাহার থেকে মুখ বন্ধ করে রাখে? ক্ষুধায় যখন পেট পুড়ে যায়, পিপাসায় যখন বুকের ছাতি ফেটে যায়, খাবার ও পানীয় সামনে থাকা সত্ত্বেও কেন খাই না?

কে আমাদের বাধা দেয়? লোকের ভয়ে? লোকের লজ্জায়? কিন্তু যখন কোনো লোকই আমাদের সামনে থাকে না, গৃহের কোণে আমি একা রয়েছি, আমার সামনে রয়েছে অঢেল পরিমাণ খাবার ও পানি, তখন আমাকে কে বাধা দেয়? তখন আমাকে কেউ বাধা দেয় না সত্য, কিন্তু আমি বুঝতে পারি, কেউ না দেখলেও আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাকে দেখছেন। তিনি আমার অতি নিকটে, তাকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।

তিনি আমার বুকের মধ্যে অবস্থান করেই আমার প্রতিটি কথা ও কাজ অবলোকন করছেন। এভাবে আমাদের ইমানের পরীক্ষা হয়ে যায়। আমার বিবেক সচকিত হয়ে ওঠে, আত্মা জিন্দা হয়ে যায়। এভাবে মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্য দিয়েই সিয়াম সাধনার অগ্নিপরীক্ষার ভেতরে আল্লাহর অস্তিত্বকে বাস্তব ও সত্য করে তোলে মানুষের জীবনে পবিত্র মাস রমজান।

রমজান মাসে অনেক হালাল বস্তুুকে অস্থায়ীভাবে দিনের বেলা রোজাদারের জন্য হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে এর দ্বারা স্থায়ী হারাম বস্তু যা সারা বছরের জন্য হারাম করা হয়েছে, রমজান মাসে তার থেকে বাঁচার শিক্ষা অর্জিত হয়। রমজানে অস্থায়ী হারামকে ছেড়ে আমাদের স্থায়ী হারাম পরিত্যাগ করার শিক্ষা অর্জন করতে হবে। আমরা আমাদের পরিবারর্গকে এটাই উদ্বুদ্ধ করব যে, এই এক মাসে আমাদের পরিবারবর্গকে তথা দেশ ও জাতিকে সব ধরনের নাফরমানি কাজ থেকে বাঁচাতে হবে।

সব পাপকর্ম থেকে বাঁচার জন্য মুসলিম উম্মাহকে উত্সাহিত করতে হবে। রমজানের দিবসগুলো কীভাবে কাটাবেন? কোনো সময়ে যেন কোনো পাপ কর্ম না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সুতরাং সব দিক বিবেচনায় রমজানে বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা, তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা উচিত। বেশি বেশি করে কালেমায়ে তাইয়্যিবা পড়ব এবং আল্লাহর দরবারে জান্নাতের প্রার্থনা করব এবং দোযখ থেকে পানাহ চাইব। ইসলামে সিয়াম শুধু কতগুলো নিষেধাজ্ঞার সমষ্টি নয় যে, মানুষ পানাহার করবে না, জৈবিক চাহিদা পূরণ করবে না, পরনিন্দা করবে না, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না। বরং এরই সঙ্গে আদেশাবলি নিহিত, যেমন রমজান মাস হলো ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাসবিহ এবং রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফে অবস্থান ও পারস্পরিক সহানুভূতি সংবেদনশীলতার বসন্তকাল।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ