শাওমির সাফল্যের মূলে তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ২০:৩৭

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের স্মার্টফোন বিক্রিতে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে শাওমি। বাংলাদেশেও ভালো অবস্থানে আছে ব্র্যান্ডটি। সামনেই আছে ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে শাওমির কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা হয় ব্র্যান্ডটির বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রাসেল আলম।

প্রশ্ন :চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে শাওমি, কীভাবে সম্ভব হয়েছে?

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী :বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস যে হিসাব দিয়েছে সেখানে শাওমি তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এর অন্যতম কারণ, ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে ভালো মানের ডিভাইস পৌঁছে দেয়া। শাওমি সবসময় চেষ্টা করে সব শ্রেণির ক্রেতার কথা বিবেচনায় এনে সেরা উদ্ভাবন ও ফিচারে ডিভাইস আনার। তাই করোনা মহামারিতে যখন প্রায় প্রতিটি দেশেই কর্মকাণ্ড স্থবির, তার মধ্যেও শাওমি গ্রাহকদের জন্য নিত্য নতুন পণ্য নিয়ে এসেছে। আমি মনে করি, শাওমির সাফল্যের মূলেই তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি।

প্রশ্ন :ঈদ বাজারে কী ধরনের ডিভাইস আছে শাওমির?           

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী :ঈদেকে সামনে রেখে শাওমি বেশ কয়েকটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশের বাজারে এনেছে। এরই মধ্যে দেশে সেরা কনফিগারেশনের সব ফোন বিক্রি করছে শাওমি। আমরা জানি দেশে এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের একটা সংকটময় সময় যাচ্ছে। লকডাউনে মানুষ ঘরে থাকছে। সে জন্য অবশ্যই যোগাযোগ অফিসের কাজে ডিভাইস প্রয়োজন হচ্ছে। তাদের জন্যই আমরা স্বল্প বাজাটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কনফিগারেশনের ফোন এনেছি। শাওমি সম্প্রতি গ্রাহকদের জন্য এনেছে রেডমি নোট ১০, রেডমি নোট ৯, রেডমি ৯, রেডমি ৯ পাওয়ার, রেডমি ৯এ স্মার্টফোন।

প্রশ্ন :ঈদে পোকোর নতুন কোন ডিভাইস আনছেন কী?            

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী :আলাাদা ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে বেশ আগে থেকেই জনপ্রিয়। দেশে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো পোকো ফোন আনার পর ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধরনের ক্রেতাদের জন্য পোকো ফোন আনছি। ঈদে ক্রেতারা পোকো এম২, পোকো সি৩, পোকো এম৩ মডেলের ফোন কিনতে পারবেন। এছাড়াও শুধুমাত্র ঈদকে উপলক্ষ করে আমরা পোকো এক্স৩ প্রো মডেলের ফোনটি আনার পরিকল্পনা করছি।

প্রশ্ন :ঈদের আগে আর কোনো নতুন পণ্য আনছে কী শাওমি?  

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী :ঈদের আগে আরও অন্তত দুটি স্মার্টফোন আনার পরিকল্পনা আছে শাওমির। আশা করছি নতুন ডিভাইসগুলো ঈদের আগেই দেশের বাজারে পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন :করোনা মহামারির মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শাওমি কিছু করছে কী?

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী :শাওমি সবসময়ই দেশের যে কোন ভালো প্রয়াসের সঙ্গে থাকতে সর্বদাই প্রস্তুত। আমরা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা ছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। দেশে গত বছর মার্চে করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলে শাওমি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকার অনুদান দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিত্সকদের সুরক্ষা সামগ্রী ও মাস্ক দিয়েছিল। ঈদের খুশি ভাগ করে নেওয়ার জন্য চলতি বছরও শাওমি জাগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ৫০০ পরিবারকে ৭ দিনের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রশ্ন :মহামারির মধ্যে গ্রাহকদের বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে কি করছে শাওমি?           

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী :রেড কোয়ান্টার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি সবচেয়ে ভালো বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছে। আমরা এর জন্য গর্বিত যে, আমরা শুধু ভালো পণ্যই সরবরাহ করছি না। পাশাপাশি শাওমি ব্র্যান্ড হিসেবে গ্রাহকদের একটা ভালো এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারছে। বর্তমানে দেশব্যাপী আমাদের ২০টি স্মার্টফোন সার্ভিস সেন্টার এবং ৪০টির বেশি কালেকশন পয়েন্ট আছে। এসব পয়েন্ট থেকে শাওমির গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত সেবা নিতে পারছেন।