রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
রাঙ্গাবালী উপজেলায় বোরো ধানের ভালো ফলনে কৃষক খুশি। তবে বাজারে পাইকারের অভাবে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। গত অর্থবছরের তুলনায় চার গুণ বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৩২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে হাইব্রিড ১২ হেক্টর ও উফশী ৩২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। এতে প্রতি হেক্টর জমিতে পাঁচ মেট্রিক টন হারে উত্পাদন হয়েছে ১ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন (১ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার কেজি) বোরো ধান। কৃষি বিভাগের হিসেব অনুযায়ী প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে বিক্রি হলে ৪ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এদিকে কৃষকরা উত্পাদিত ফসল বিক্রি করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও দেশে চলমান কঠোর ‘লকডাউন’ এর কারণে কৃষকের হাসি ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি সঠিক সময়ে ৭০ শতাংশ চাষি গোলায় ধান তুলেছেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাজারজাত করা যাচ্ছে না।
বোরো চাষি মিন্টু মেম্বার বলেন, ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ কানি জমিতে বোরো ধান চাষ করি। লকডাউন ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা লাভ হবে। রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিনা মূল্যে চার শতাধিক কৃষকের মধ্যে বোরো প্রণোদনা বীজ ও সার বিতরণ করেছি। যে কারণে আগের তুলনায় চলতি বছরে বোরো আবাদে অনেক চাষি ঝুঁকেছে। দেশে চলমান লকডাউনের ফলে ব্যাপারীরা ধান ক্রয় করতে আসছে না। যার ফলে কৃষকের একটু সমস্যা হচ্ছে।’ পটুয়াখালীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. কারিমুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরে চাষিদের ধান বিক্রয়ে কোনো প্রকার সমস্যা যাতে না হয় সেক্ষেত্রে পটুয়াখালী কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। আশাকরি লকডাউনে বোরো চাষিদের ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো প্রকারের সমস্যা হবে না।’
