অনুদানের টাকা সহিংসতায় ব্যবহার করে হেফাজত

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ২২:৫২

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রথম দিন ২৬ মার্চ হেফাজতের তাণ্ডবের সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা দখলে নেওয়ার নির্দেশ ছিল হেফাজত নেতাদের। এ ঘটনার দায় যাতে হেফাজত নেতাদের ওপর না পড়ে, এ কারণে তারা ঐ দিন কোনো ব্যানার ব্যবহার করেননি। গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতারাই এ কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে তাবলিগ জামাতকে দুই ভাগ করার নেপথ্যেও হেফাজত। পাশাপাশি মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য বিদেশ থেকে যে অনুদান আসত, সেটাও সহিংসতায় ব্যবহার করে হেফাজত।

হাটহাজারী থানায় আক্রমণের ঘটনায় অর্ধশত হেফাজত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঐ ঘটনার দুই দিন আগেই নেতারা মাদ্রাসার ছাত্রদের নির্দেশনা দেন যেভাবেই হোক আক্রমণ করে হাটহাজারী থানা দখলে নিতে হবে, কিন্তু হেফাজতের কোনো ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। তারা আক্রমণ করলেও পুলিশের প্রস্তুতি থাকায় তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি বলে জানান ঐ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা ৩০০ থেকে ৪০০ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে। তাদের একটি অংশ মাদ্রাসার মেস বা ডাইনিংয়ে কাজ করে, একটি অংশ মাদ্রাসা পাহারা দেয় এবং একাংশ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। যেহেতু তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, তারা এখানে স্থায়ীভাবে থাকে এবং বিনামূল্যে খাওয়াদাওয়া করে। তাদের হেফাজতের শীর্ষ নেতারা ধ্বংসাত্মক কাজের অগ্রভাগে ব্যবহার করেন। বাধ্য হয়ে তাদের এসব কাজে যেতে হয়।

এদিকে পুলিশের টানা অভিজানে হেফাজতে ইসলামের নামে দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে, এলাকা ছেড়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পলাতক রয়েছে। ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক আসামি গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের ঐ কর্মকর্তা বলেন, এখনো অনেক অভিযুক্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার ভেতরে আত্মগোপন করে আছেন।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম তার দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল জানিয়েছেন, তাবলিগ জামাতকে দুই ভাগ করার নেপথ্যেও হেফাজত  নেতাদের হাত ছিল। পাশাপাশি রমজান মাস সামনে রেখে দেশ জুড়ে হেফাজতের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানান তিনি।

ডিবির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, রমজান মাসে বদরের যুদ্ধ হয়েছিল। আরেকটি বদরের যুদ্ধের ডাক দিয়েছিল হেফাজত। ২৬ মার্চে শুরু হওয়া সহিংসতা রমজান পর্যন্ত টেনে আনার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এসব তথ্য গ্রেফতারকৃত নেতারা স্বীকার করেছেন।

২৬ মার্চ শুরু হওয়া তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জনেরও বেশি নেতাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ পেয়েছে সহিংসতার মূল কারণ। এসব তথ্য তুলে ধরে মাহবুবুল আলম জানান, চলতি রমজানেই দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির নীলনকশায় মেতেছিলেন হেফাজতের নেতারা। দেশ-বিদেশ থেকে মাদ্রাসায় আসা অনুদানের টাকা সাম্প্রতিক সহিংসতায় খরচ করা হয়েছিল। এর আগে মামুনুল হক ও তার সহযোগীরা মোহাম্মদপুর এলাকায় তাবলিগ জামাতের সাদপন্থিদের ওপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

২০২০ সালের ৬ মার্চ সেখানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ই রিমান্ডে আছেন মামুনুল হক। মামলার বাদী জি এম আলমগীর শাহিন সাদপন্থি। ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। সেখানে আসামি ওমর, ওসমান, শহিদ, আনিস ও জহিরের মসজিদে ঢুকে হামলা চালানোর প্রমাণ মিলেছে। তারা সবাই মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল সাদপন্থিদের বিতাড়িত করার কথা স্বীকার করেছেন।