পদ্মায় গেল ২৬ প্রাণ

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ২৩:২১

মাদারীপুরের শিবচরে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের কাঁঠালবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) বডিতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে স্পিডবোট উল্টে গিয়ে ২৬ জন নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার এই সংঘর্ষে স্পিডবোডটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় আহত পাঁচ জনকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ঐ সিপডবোটের চালক শাহ আলম। তাকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগীয় উপপরিচালক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাট থেকে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজারের দিকে  যাচ্ছিল। বোটটি কাঁঠালবাড়ী (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছে পৌঁছালে নদীতে থাকা একটি বাল্কহেড এর পেছনে সজোরে ধাক্কা লেগে উলটে যায়। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকেই ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাঁতরে তীরে উঠে ৫ জন। তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে এক নারীর মৃত্যু হয়।

নিহত ২৬ জনের মধ্যে গতকাল বেলা আড়াইটা পর্যন্ত আট জনের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। তারা হলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো এলাকার আরজু সরদার (৪০) ও তার দেড় বছর বয়সি ছেলে ইয়ামিন, মাদারীপুরের রাজৈর শঙ্কারদি এলাকার তাহের মীর (৩০), কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মাইখারকান্দি এলাকার কাওসার হোসেন (৪০) ও রুহুল আমিন (৩৫), তিতাস উপজেলার ইসুবপুর এলাকার জিয়াউর রহমান (২৮), মুন্সিগঞ্জের সাতপাড় এলাকার সাগর  শেখ (৩৭), পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পসারিয়াবুনিয়া এলাকার জনি অধিকারী (২৬)। তাদের লাশ স্বজনদের কাজে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, স্পিডবোটের চালক গুরুতর আহত। তাকে পুলিশের নজরদারিতে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিত্সার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্পিডবোটের চালক মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার পুরো মাথায় ব্যান্ডেজ। তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন  বলেন, তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের  মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। লকডাউনে স্পিডবোট বন্ধ থাকার পরেও কেন এমন  দুর্ঘটনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পিডবোটটি মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে বাংলাবাজার আসে। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বোট ছাড়ে। এসব বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পাশাপাশি নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ  রয়েছে। তবে এরই মধ্যে কিছু অসাধু স্পিডবোট চালক অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করে আসছে।

মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, এই দুর্ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জের চার ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এরা হলেন, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার খরকী ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান চাপরাশির ছেলে পাতারহাট বন্দরের মুদি ব্যবসায়ী মনির চাপরাশি (৩৫) এবং উলানিয়া ইউনিয়নের পূর্বষাট্টি গ্রামের বাসিন্দা মরহুম সাদেক বেপারীর ছেলে উলানিয়া বাজারের আহাদ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ বেপারী (৩৫) ও সাইফুল ইসলাম বেপারী (৩১) এবং একই ইউনিয়নের আশা গ্রামের বাসিন্দা রত্তন হাওলাদারের ছেলে উলানিয়া বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৩০)।