ইসমাইন হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমন। মাস্টার্স পাশ করে ২০১৩ সালে শুরু করেন বিটকয়েন ব্যবসা। শুরুতে একটি ছোট অফিস দিয়ে শুরু করলেও এখন রাজধানীর বাড্ডায় বিশাল অফিস গড়ে তুলেছেন। ফ্ল্যাট, প্লট, সুপার শপ ব্যবসাসহ অঢেল সম্পদ তো আছেই। তিন ফ্লোরে ৩২ জন কর্মচারী বিটকয়েন প্রতারণায় ২৪ ঘন্টাই কাজ করতেন। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু বিটকয়েনেই লেনদেন করা হয়েছে ১২ থেকে ১৫ লাখ ডলার। মূলহোতা সুমনসহ এ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব। গতকাল সোমবার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য তুলে ধরেন। বিটকয়েন ভারত, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপানসহ ইউরোপের অনেক দেশে প্রচলিত। কিন্তু বাংলাদেশে বিটকয়েন অবৈধ। তাই গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা। বাংলাদেশে একটি বিটকয়েনের মূল্য ৪৯ লাখ ১১ হাজার ৩০৪ টাকা।
র্যাব জানায়, উত্তর বাড্ডা এলাকায় বেসিক বিজ মার্কেটিং নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে সুমনসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্যরা হলেন—আবুল বাশার রুবেল, রাকিবুল ইসলাম, আরমান পিয়াস, মেহেদী হাসান, রায়হান আলম সিদ্দিকি, জোবায়ের, মেহেদী হাসান রাহাত, রাকিবুল হাসান, সোলাইমান ইসলাম, জাকারিয়া ও আরাফাত হোসেন। এসময় ২৯টি কম্পিউটার, তিনটি ল্যাপটপ ও ১৬টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অনলাইন আউট সোর্সিং ব্যবসার আড়ালে অবৈধ বিটকয়েন ও অনলাইন মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করে দীর্ঘদিন চক্রটি প্রতারণা করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছেন, ঢাকায় তার দুটি ফ্ল্যাট আছে। প্লট, সুপার শপের ব্যবসা রয়েছে তার। তার একাধিক ভার্চুয়াল ওয়ালেট রয়েছে। যেখানে বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্জিত লক্ষাধিক ডলার মজুত রয়েছে। বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ী, জুয়ারিদের কাছে বিট কয়েন বিক্রি করতেন। তিনি অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
