পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দাসেরভারানী টহল ফাঁড়ির অধীন বনে গতকাল সোমবার সকালে আগুন লেগেছে। আনুমানিক পাঁচ একর জায়গার গাছপালা পুড়েছে। বন বিভাগ, এলাকাবাসী, থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে বনের শুকনো লতাপাতা, গুল্ম পুড়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ায় ব্যাপক জায়গা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেওয়া দক্ষিণ রাজাপুর, মাঝেরচর ও রসুলপুর গ্রামের আফজাল চাপরাশি, রেজাউল, সালাম ও সুমন বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা শতাধিক গ্রামবাসী সেখানে ছুটে যাই। বাড়ি থেকে কলসি, বালতি, জগ ও হাঁড়ি নিয়ে পাশের ভোলা নদী থেকে পানি নিয়ে এক দল গ্রামবাসী আগুন নেভাতে চেষ্টা চালাচ্ছি। অন্য একটি দল আগুন যাতে সুন্দরবনের সব দিকে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ফায়ার লাইন (আগুনের অংশের মাটি আলাদা করা) কাটার কাজ করছি। মরা ভোলা নদী থেকে আগুন লাগার স্থানের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পানি পেতে কষ্ট হচ্ছে। এখানে অন্য কোনো পানির উত্স নেই। এ কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত নাংলী টহল ফাঁড়ি এলাকার সিপিজি টিম লিডার লুত্ফর রহমান বলেন, বনের ২৪ নম্বর কম্পার্টমেন্টের প্রায় পাঁচ একর জায়গা জুড়ে আগুন জ্বলছে এবং বাতাসের তীব্রতায় আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নেভানোর জন্য শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা আ. মান্নান জানান, তারা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার লাইন কাটছেন যাতে আগুন ছড়াতে না পারে। তিনি বলেন, মাটির নিচে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের কারণে আনুমানিক দেড় একর জায়গা জুড়ে জ্বলছে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকার ৪০০ বনভূমি পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. মইনুদ্দিন খান এবং পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ঘটনাস্থলে গেছেন। মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।
