ছাত্রছাত্রীদের নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ স্কুল

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ০০:৪০

কোভিড-১৯ বা করোনা মহামারিতে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকায় হুমকিতে শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া। এমন অবস্থায় মহামারিকালে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’। কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যত্ চিন্তা করে মহামারি শুরুর পর থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান অব্যহত রেখেছে সংস্থাটি। যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের প্রত্যন্ত চরে কোমলমতি শিশুদের নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ স্কুলগুলো।

ফ্রেন্ডশিপ শিক্ষা বিভাগ প্রধান ব্রি. জে. (অব.) ইলিয়াস ইফতেখার রসুল জানান, করোনাকালে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের সুবিধাবঞ্চিত প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রীকে এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে পাঠদান। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগ, ছোট ছোট দলে উঠোন শিক্ষা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের খোঁজখবর নেওয়া, ইত্যাদি। প্রত্যন্ত চরে ফ্রেন্ডশিপের ৪৩টি প্রাথমিক এবং ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধীনে চলছে এই পাঠদান ব্যবস্থা। সরকারি ১২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুসরণ করছে ফ্রেন্ডশিপের এই শিক্ষা পদ্ধতি। ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যালয়ের শিক্ষদের পাঠদান সহজ করতে আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন প্রশিক্ষণের। সংস্থাটির শিক্ষা বিভাগ প্রধান জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় এমন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে বিদ্যালয় থেকে ছাত্রছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে উঠান শিক্ষা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রীদের মনে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে, যা করোনাকালে পাঠদানকে সহজ করেছে।

ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রুনা খান বলেন, করোনাকালে সুবিধাবঞ্চিত চরবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছে ফ্রেন্ডশিপ। তাই সংস্থার অধীনে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানে আনা হয়েছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে ফোন কলে যোগাযোগ, উঠোন শিক্ষা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের খোঁজখবর নেওয়ায়, সাধুবাদ জানিয়েছে অবিভাবক, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসন।