আলজাজিরা
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীরা হামলার সময় গ্রামের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সে সময় পালানোর চেষ্টা করা লোকজনকে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়।
লাবিদি ওউবা নামের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সোমবার নাইজার সীমান্তের কাছে কোমানজারি প্রদেশের কোদয়েল গ্রামে ঐ হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক সরকারি কর্মকর্তা হামলা থেকে বাঁচতে ঐ এলাকা থেকে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওউবা বলেন, ‘বিদ্রোহীরা পুরো গ্রাম ঘিরে রাখে এবং লোকজনকে হত্যা করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি সেখান থেকে পালিয়েছি, কারণ সন্ত্রাসীরা সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরই হামলা চালিয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রার্থনা করছি যেন আমাদের দেশে শান্তি ফিরে আসে। আমরা সবাই খুব ক্লান্ত।’ মেডিয়েম্পো তানদাম্বা নামের এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় ১০০ বিদ্রোহী মোটরসাইকেলে করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তিনি জানান, ঐ হামলায় তার ভাইয়ের চার সন্তান নিহত হয়েছে। তানদাম্বা বলেন, ‘আমরা আজ খুব ভয়ে ছিলাম।’ সোমবারের হামলার ঘটনায় এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দুই স্প্যানিস সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। এছাড়া ঐ একই এলাকায় সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় বেশ কয়েক জন সেনা নিখোঁজ হয়। এছাড়া ঐ একই সময়ে দেশটির ইয়াত্তাকৌ শহরে হামলার ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বুরকিনা ফাসোতে আলকায়েদা এবং আইএসআই জঙ্গিদের সহিংসতা বেড়ে গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো ১০ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
