তীব্র খরায়ও বিনা ধানের ভালো ফলন

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ২১:৪৬

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে তীব্র খরার মধ্যে বিনা ধানের ভালো ফলন হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত বিনাধান প্রতি হেক্টরে সাত মেট্রিক টন ফলেছে। লবণ ও তাপসহিষ্ণু এ জাতের ধানে কোনো চিটা হয়নি। বিনাধান-১০ চাষাবাদ করে কৃষক লাভবান হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী মোল্লার জমিতে উত্পাদিত বিনাধান ১০ কেটে পরিমাপ করে বিনার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিনা গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘গোপালগঞ্জ জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২৬ একর জমিতে ৫০টি প্রদর্শনী প্লটে কৃষক বিনা ১০ ধানের আবাদ করেন। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান সাত টন ফলন দিয়েছে। এ ধান খরায়ও আক্রান্ত হয়নি। মধুমতি নদীতে লবণ এসেছে। তার পরও মধুমতি নদী পাড়ের কৃষক তাদের জমিতে এ জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। বোরো মৌসুমে বিআর ২৮ ধানের মতোই এ ধানের চাষাবাদ করা যায়। এ ধান চাষাবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগে না। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান প্রচলিত ধানের তুলনায় অন্তত দুই টন বেশি ফলন দেয়। সারা দেশে এ জাতের ধানের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, লবণাক্ততা নেই, এমন জমিতে এ জাতের ধান আরো বেশি ফলন দিতে সক্ষম।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল বড়বাড়ী গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী বলেন, প্রচণ্ড গরমে আমাদের মাঠের অন্য জাতের ধান নষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমার খেতের বিনাধান ১০ আক্রান্ত হয়নি। ধানে কোনো চিটা হয়নি। বাম্পার ফলন পেয়ে আমার লাভ হয়েছে।’ একই গ্রামের কৃষক মো. গোলাম রাব্বি খান বলেন, ‘এই ধান উত্পাদনে পানি সেচ, সার ও কীটনাশক তুলনামূলকভাবে অনেক কম লাগে। এ ধান চাষ করে বেশি ফলন পেয়ে আমি অধিক লাভবান হয়েছি।’ একই গ্রামের কৃষক গফ্ফার শেখ বলেন, ‘বিনাধান ১০ খরা ও লবণসহ সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ভালো ফলন দিয়েছে।’  বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ও বিনা ১০ ধানের উদ্ভাবক ড. মির্জা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের চাষাবাদে প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবর্তিত জলবায়ুর সব ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিনাধান ১০ বাম্পার ফলন দিতে সক্ষম। তাই আমি ধান ও বিভিন্ন ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি করতে স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন এ জাতের ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের বিশেষ অনুরোধ করছি।’