ইছামতী পাবনা জেলার একটি নদী। দৈর্ঘ্য ৪৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১২০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রদত্ত পরিচিতি থেকে জানা যায়, ইছামতি নদীটি পাবনা জেলার সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নে প্রবহমান পদ্মা থেকে উত্পত্তি হয়েছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা একই জেলার বেড়া উপজেলার পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে হুরাসাগর নদীতে পড়েছে। এই নদীতে আগে সারা বছর পানির প্রবাহ থাকলেও বর্তমানে মৌসুমি প্রকৃতির এই নদীতে সারা বছর পানিপ্রবাহ থাকে না। শুকনো মৌসুমে নদীটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। ফলে এই এলাকায় দেখা যায় চরম পানির সংকট। সৃষ্টি হয় কৃষিকাজে পানির মহাসমস্যা।
কোনো এক সময় এই নদী দিয়ে মালবাহী ট্রলার, ফেরি, লঞ্চ, নৌকা চলত। ফলে পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছিল ফেরিঘাট। বহু বছর হলো সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ না থাকায়। পানির প্রবাহ আবারো ফেরানোর জন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। দখল করে এই নদীতে জায়গায় জায়গায় বাঁধ দিয়ে করা হচ্ছে মাছ চাষ, কোথাও গড়ে উঠেছে ইটের ভাটা। পাবনা শহরে একাধিকবার নদী দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা করা হলেও, মাঠে নেমে নেওয়া হয়নি তেমন জোরালো পদক্ষেপ। ৪৪ কিলোমিটার এই নদী এখন অধিকাংশ মানুষের ভোগদখলে। যতটুকু ভোগদখলের বাইরে আছে, তাতে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। ফলে নদীর এখন অচলাবস্থা। এই ইছামতী নদীর যে অংশটুক পাবনা শহরে পৌরসভার মধ্যে পড়েছে সেই অংশটুকুর অবস্থা সবচেয়ে নাজেহাল, আবর্জনার ভাগাড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। নদীর বাকি অন্য অংশ কোথাও ইটের ভাটা, কোথাও কচুরিপানা, কোথাও ভরাট করে বাড়ি, কলকারখানা, কোথাও কৃষিকাজ, আবার কোথাও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে, আবার কোথাও নদী ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। এভাবে নদীকে ধ্বংস করে দেওয়ার ফলে শুকনো মৌসুমে চরম পানির সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই দুরবস্থা ঘোচাতে হলে ইছামতী নদীকে দখলমুক্ত করতে হবে এবং খনন করে গভীরতা বাড়িয়ে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে—যাতে ভবিষ্যতে শুকনো মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায় এই এলাকার মানুষ।
শাবলু শাহাবউদ্দিন, শিক্ষার্থী, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
