সিলেটের কৃষকদের মুখে ‘বোরোর হাসি’

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ২৩:৪১

সিলেটে অঞ্চলে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ। অনেক বছর পর এবার বৈশাখী ফসল বোরো নিশ্চিন্তে ঘরে তুলতে পারছেন বলে সিলেটের প্রায় ১৩ লাখ কৃষি পরিবার খুবই খুশি। মাঠে মাঠে অসংখ্য নারী-পুরুষ মাড়াই-ঝাড়াই শেষে ধান গোলায় তোলার জন্য বস্তাবন্দি করছেন। কৃষান-কিষানির এমন মনোহর কর্মযঞ্জের দৃশ্য গত কয়েক বছরেও দেখা যায়নি।

অন্যবছর যেখানে বৈশাখী হওয়ায় কৃষকরা পর্যুদস্ত হতো, সেখানে এবার ভিন্ন দৃশ্য। আবহওয়া অনুকূল থাকায় এবং কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে অল্প সময়ে ধান কাটা শেষ হচ্ছে। সিলেটে অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো ধান। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার ৮ হাজার ৭২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ধান কৃষকের গোলায় উঠবে।

বোরো প্রধান জেলা সুনামগঞ্জ। এ জেলার জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন, তার জেলায় বাম্পার ধান উত্পাদনের কথা জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এবার কৃষকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ধান কেটে, শুকিয়ে, মাড়াই-ঝাড়াই দিয়ে ঘরে তুলতে পারছেন। এদিকে, কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি বছর বৈরী প্রকৃতি, শ্রমিকসংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ফসলটি ফলিয়ে থাকেন সিলেটের কৃষকরা। এবার যদিও প্রকৃতি বৈরী ছিল না। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে ধান কাটার শ্রমিকসংকট দেখা দেয়। পরে  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হাওরের কৃষকদের বোরা ধান দ্রুত ঘরে তুলতে যান্ত্রিক পদ্ধতির সেবা চালু করা হয়। সূত্র মতে, সিলেট বিভাগের জন্য ২৯৫টি হারভেস্টার মেশিন, রিপার মেশিন ১৭৬টি বরাদ্দ হয়। কৃষকরা ক্রমেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন কৃষিযন্ত্রের প্রতি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সিলেটস্থ অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে এত সুন্দরভাবে সিলেটে বোরো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত হাওরে ৮৭  ভাগ ধান কাটা শেষ।’

সূত্র মতে, চলতি বোরো মৌসুমে এবার সিলেটের চার জেলায় ৪ লাখ ৮৩  হাজার  ৭০৫ হেক্টর জমিতে বোরো জমি আবাদ হয়। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৭৮ মে.টন চাল। কর্মকর্তারা জানান, ধান কাটার যন্ত্রের অভাব পূরণে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের মেশিন সরকার ভর্তুকি দিয়ে ৭ লাখ টাকায় বিক্রয় করেছে কৃষকদের কাছে।

মেশিন পেয়ে খুশি কৃষক :কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরা মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর। এর মধ্যে বিআর ২৮ ধান ৬৭ হাজার হেক্টর এবং বিআর ২৯ জাতের ৬৩ হাজার হেক্টর। বাকি ধান হাইব্রিডসহ কিছু দেশীয় প্রজাতির ধানও রয়েছে। সুনামগঞ্জের কৃষকরা এবার ২৯৯টি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কম সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারছেন। এমন সুবিধা চালু হওয়ায় খুশি হাওরের কৃষকরা, খুবই খুশি ও উপকৃত। তারা জানান, এতে তদের অর্ধেক খরচ বেচে যাচ্ছে।

এদিকে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সিলেট অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো প্রতি বছরই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই  এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের ৭১৫ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ  নির্মাণ-পুনর্নির্মাণে ব্যয় করেছে ৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ৬১৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এবার প্রকৃতি সদয় ছিল বলে হাওর নিরাপদ থেকে যায়। চমত্কার আবহাওয়ায় কৃষকরা আনন্দের সঙ্গে ধান কাটছেন।